Uncategorized

নিভে গেল নাসিমের স্বপ্ন

হতে পারতেন বিসিএস ক্যাডারের ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রশাসনিক অন্য কোনো ক্যাডারের কর্মকর্তা। সে স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি চলেও এসেছিলেন কিন্তু সে কি আর জানতেন ৪০তম বিসিএস এর মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে আর বাড়ি ফেরা হবে না। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপাড়া গ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান নাসিমের সে স্বপ্নের প্রদীপ আকস্মিক নিভে গেল। নিভে গেল বাবা-মা আর আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীর সব স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ করে অকালেই চলে গেলেন পরপারে। শনিবার জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল রেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তার প্রাণ। নিহত নাসিম পাঁচবিবি প্রেস ক্লাবের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক দিনকাল ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার পাঁচবিবি প্রতিনিধি সাংবাদিক মোশারফ হোসেন মজনুর ২য় ছেলে।
মঞ্জুরুল হাসান নাসিম রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২০১৬ সালে পাস করে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সোনালী ব্যাংক হাকিমপুর শাখায় প্রিন্সিপাল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ৪০তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি, মৌখিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় গাইড বই ও বন্ধুদের পরামর্শ নিয়ে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে জয়পুরহাট রেলস্টেশনে নেমে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাঁধন পরিবহন নামক যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন।
শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দুরে পুরানাপৈইল রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত হন নাসিম।
সাংবাদিক মোশারফ হোসেন মজনু ও তার গর্ভধারিনী মা জীবনের সবকিছু বিলিয়ে এই নাসিমকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করিয়েছিলেন। বাবা বছর খানেক আগেই মারা যান। তাদের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নাসিম। অকালে প্রাণ ঝরে যাওয়ায় পরিবারটির পাগল প্রায় অবস্থা। ঘটনার পর থেকেই সবধরনের মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। অকালে এই মেধাবীর চলে যাওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট সামছুল আলম দুদু ঘটনার পর বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং নিহত ও আহত পরিবারগুলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু গেটম্যানের গাফিলতিতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু। ওই ঘটনায় ১২ জনের প্রাণ যায় এবং আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। যদিও প্রশাসন এবং রেল বিভাগের পক্ষ থেকে দু’টি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহত পরিবারগুলোর দাবি রেল বিভাগের এই গাফিলতির বিচার যেনো হয়। তাদের সন্তানরা আর ফিরে আসবে না কিন্তু আর কোনো প্রাণ যেনো অকালে ঝরে না যায়। সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button