নাটোর পৌরসভায় ৩শ কোটি টাকার প্রকল্প, শহর হবে নান্দনিক

নাটোর প্রতিনিধি : দেড়শ বছরের পুরনো নাটোর পৌরসভা। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে নিশ্চিত হয়নি নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি অবকাঠামোর উন্নয়ন। রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ এবং বজ্য ব্যবস্থাপনার এক নাজুক নাম নাটোর পৌরসভা। মেয়র গেছে নতুন মেয়র এসেছে, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি নাগরিক সেবার।
তবে অবহেলিত নাটোর পৌরসভায় দেবদূতের মতো এসে পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। অবকাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য একসাথে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে তারা। এতে করে দেড়শ”বছরের পুরনো নাটোর শহর হয়ে উঠবে আধুনিক ও নান্দনিকতা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এমজিএসপি) কর্মকর্তারা। অংশিজন সহ গণমাধ্যম কর্মিদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুল ইসলাম,অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ তরিকুল ইসলাম,অবকাঠামো প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী, নাটোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী আমির হামজা, নাটোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক সহ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ১৮৬৯সালে গঠিত হয় নাটোর পৌরসভা। বর্তমানে এই পৌরসভার আয়তন ১৪দশমিক ৮৮বর্গ কিলোমিটার। মোট ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে পৌরসভা গঠিত। অথচ ১৫০বছরের পৌরসভায় হয়নি দৃশ্যমান উন্নয়ন। পৌরকর, বিভিন্ন সেবার ফি দিয়েই উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প পেলেও যা ছিল যতসামান্য। যা সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যায় হয়। থোক বরাদ্দ না পাওয়া বা আর্থিক স্বল্পতার কারনে উন্নয়ন হয়নি পৌরসভাটি।
কর্মশালায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকারের মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এমজিএসপি) দেশের মোট ৫১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই প্রকল্পের মোট অর্থ ১০হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে নাটোর পৌরসভার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৩০০কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রকেল্পের অবকাঠামো প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ভাবে নাটোর পৌরসভার উন্নয়নকে তিনটি ভাবে বিভক্ত করেছি। প্রথম, মধ্যম এবং শেষ বা তৃতীয়। এর সবচেয়ে বেশি জরুরী যে প্রকল্পগুলো, সেগুলো আগে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে। এই
প্রকল্পে মাত্র ৫শতাংশ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেটা দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ক্ষতিপুরণ
হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি জলি বলেন, নাটোর পৌরসভার ইতিহাসে একসাথে এত টাকা কখনও বরাদ্দ পায়নি। আমরা প্রকল্পটির মধ্যে রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহ প্রাথমিক ভাবে ৪টি বহুতল মার্কেট, দুটি কিচেন মার্কেট, পৌর শিশু পার্ক, সৌন্দর্য বর্ধন, পরিবেশ সহ বিভিন্ন প্রকল্প অর্ন্তভুক্ত করেছি। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নাটোর পৌরবাসী একটি নান্দনিক পৌরসভা পাবে। ছোট ছোট রাস্তা প্রশস্তকরণ হবে। ফলে দীর্ঘ দিনের সংকট সমাধান হবে বলে আশা করছি।



