নাটোরে স্বামীকে হত্যার চেষ্টা স্ত্রী গ্রেপ্তার

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ছাতনীদিয়ার গ্রামে পরকীয়া প্রেমিকের পরামর্শে স্বামীকে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী উর্মি খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । স্বামীর শান্ত মন্ডল বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে । চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ।
জানা যায়, ছাতনী দিয়ার গ্রামের ক্ষেতমজুর শান্ত মন্ডল এবং উর্মি খাতুন দম্পতির বিয়ের বয়স ৫ বছর। তাদের প্রায় এক বছর বয়সী একমাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে । ১৭ দিন আগে পাশের বাড়িতে আসবাবপত্রের কাজ করতে আসে একই ইউনিয়নের মাঝদীঘা গ্রামের আব্দুস সালাম নামের এক যুবক। কাঠমিস্ত্রী সালামের সাথে পরিচয় হওয়ার এক পর্যায়ে তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে ওই গৃহবধূ। মাত্র ১৭ দিনের প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে উভয়ে সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করে সংসার করার । কিন্তু তাতে বাঁধ সাধে স্বামী আর ওই অবুঝ শিশু সন্তান । পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পরামর্শ করে পথের কাঁটা দূর করার জন্য মঙ্গলবার সকালে স্বামী কাজে যাওয়ার আগে টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত সাজিয়ে দেয় উর্মি । বেঁধে দেয়া ভাতে ফসলের জমিতে পোকা নিধনে ব্যবহার করা ”কারিনা” নামে সাদা পাউডার জাতীয় বিষ মেশায় ওই গৃহবধূ। স্বামী কাজে যাওয়ার পর সন্তানকে বিষ খাওয়াতে না পেরে তার উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। দুপুরে কাজের বিরতিতে সঙ্গীদের সঙ্গে ভাত খেতে বসে অসুস্থ হয়ে পরে শান্ত । এ বিষয়টি সঙ্গীদের ক্ষেতমজুরদের বললে, তারা ওই ভাতে সাদা পাউডার মেশানো দেখতে পায়। তারা ওই ভাত খেতে তাকে নিষেধ করেন। ধীরে ধীরে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তাকে ওই ভাতসহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয় । বাসায় আসার পর তাঁর অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকলে গ্রামবাসী তাকে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় । সেখানে অবস্থার অবণতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় । গ্রামবাসীরা স্ত্রী উর্মিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ভাত বিষ মেশানোর কথা স্বীকার করে । খবর পেয়ে পুলিশ গৃহবধুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় ।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি দুলাল সরকার জানান, ভুক্তভোগীর রামেকে চিকিৎসা চলছে। তবে ৭২ ঘণ্টা পার না হলে তাকে শঙ্কামুক্ত বলছেন না ডাক্তার। এদিকে তাকে চিকিৎসা করানোর সামর্থও পরিবারের কারো নেই। বুধবার (১২ অক্টোবার) গ্রাম ও এলাকাবাসী টাকা তুলে তার চিকিৎসার খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই ওই প্রেমিক নিজ বাড়িতে তালা দিয়ে উধাও হয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় উর্মিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার উর্মিকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে ।




