নাজিবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

বিশ্বাস ভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়ার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে দুই মাস আগেই দেশটির জাতীয় নির্বাচনে নাজিবকে পরাজিত হতে হয়।
বুধবার আদালত প্রাঙ্গণে নাজিবকে নেয়া হলে তাকে ঘিরে ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। এসময় তাকে স্যুট ও লাল টাই পরিহিত অবস্থায় শান্ত ও অনেকটা হাসিমুখেই দেখা যায়।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী কমিশন। নাজিবের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার জাতীয় উন্নয়ন ফান্ড থেকে টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
কুয়ালালামপুরের একটি আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে ফৌজদারি আইনে তিনটি ও ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত কারণে আনা আরেকটি অভিযোগের শুনানি হয়। তবে এসব শুনানিকালে নাজিব নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
তার বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগটিতে ‘যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ’ করা হয়েছে কমপক্ষে তার পাঁচগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে সরকারি কর্মকর্তার পদ ব্যবহার করে তিনি নিজের পরিতোষণ বাবদ ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নাজিবের সহযোগীরা একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার পাচার করে, যার কিছু নাজিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও পাচার হয়। এসব কারণে দেশটির জাতীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট হেরে যায়। অপরদিকে ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার অর্থপাচার মামলার নাজিবের বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত শুরু করে। এর আগে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগে নাজিব রাজাককে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা।
সম্প্রতি নাজিব রাজাকের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জব্দকৃত ব্যাগ ও লাগেজ থেকে ১১৪ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ২ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার উদ্ধার করে পুলিশ। এপি, ইউএনবি।




