মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির খানা বা পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এবং রানাপাশা ইউনিয়নের ১নং ওয়াডে’ এ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু।
এ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি থানার অধীনে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হবে। সরকারের প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রাহকেরা সরাসরি প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে এই তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কোনো প্রকার অর্থ বা ফি লাগবে না। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নাম করে কেউ টাকা দাবি করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ জানাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ১০৯৮-এ কল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংগৃহীত প্রকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হবে কোন পরিবারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা আগে পাবে।
এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে যুক্ত হবে। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্রধারী প্রশিক্ষিত কর্মীরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাবের মাধ্যমে আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সারা দেশের জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ভার্চয়িালি যুক্ত ছিল।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এর অংশ হিসেবে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করে এ হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
চলতি অর্থবছর নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে।
উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।