ভারতের জনপ্রিয় ধর্মগুরু ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হবার পর ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় চণ্ডীগড়ে সহিংসতা শুরু হয়েছে।
গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ক্রুদ্ধ ভক্তরা শহর জুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুটি রেল স্টেশনে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গেছে।
ভক্তরা গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং গণমাধ্যমের ভ্যানে আগুন দিয়েছে বলে বিবিসির রবিন সিং জানাচ্ছেন।
বিবিসি-র সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনী ও ডেরা সমর্থকদের মধ্যে হিংসায় অন্তত তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। আহতের সংখ্যা শ খানেক।
ডেরা সমর্থকদের মোকাবেলা করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস আর গুলিও চালানো হয়েছে বলে আমাদের সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন।
উত্তেজিত সমর্থকরা হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগ করছে।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ও সাংবাদিক-চিত্রসাংবাদিকদের ওপরে হামলা চালানো হয়েছে।
পাঞ্জাব আর হরিয়ানা – দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই শান্তিবজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
যদিও তাকে পুলিশেরই গ্রেপ্তার করার কথা, কিন্তু অভূতপূর্ব হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কায় তাকে নিজেদের কাছে না রেখে সরাসরি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাকে এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় মুখ্য দপ্তরে রাখা হয়েছে। পরে তাকে হেলিকপ্টারে চাপিয়ে কোনও দূরবর্তী কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে।
বিবিসি-র সংবাদদাতারা পাঞ্জাব আর হরিয়ানার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জানাচ্ছেন:
• পাঞ্জাবের মানসা আর মলোটে বিতর্কিত ধর্মগুরুর ভক্তরা দু দুটি রেল স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। ফিরোজপুর জেলায় প্রশাসন কারফিউ জারি করার কথা ঘোষণা করেছে।
• পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চলছে কড়া তল্লাশি।
• সংবাদ সংস্থা পি টি আই জানাচ্ছে হরিয়ানার যে পাচকুলা শহরের আদালত আজ গুরমিত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, সেখানে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
মি: সিং-এর দুই লাখের বেশি ভক্ত রায় ঘোষণার আগেই চণ্ডীগড় শহরে জমায়েত হয়েছিল।

সোমবার তার সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আমরিন্দর সিং মি: সিংয়ের বিপুল সংখ্যক ভক্তকে চণ্ডীগড় যেতে দেবার জন্য হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন।
দুই রাজ্যেরই রাজধানী চণ্ডীগড়।
মি: সিং শতাধিক গাড়ির কনভয় নিয়ে হরিয়ানায় চণ্ডীগড়ের শহরতলিতে পাঁচকুলায় তার আশ্রম থেকে আজ আদালতে যান।
এলাকার স্কুল ও অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ট্রেন ও রাস্তাঘাট বন্ধ রয়েছে এবং কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন হাঙ্গামায় গ্রেপ্তারকৃতদের জন্য শহরের তিনটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলখানা বানানো হয়েছে।




