দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখীদের ঢল অব্যহত

সংবাদদাতা, গোয়ালন্দ(রাজবাড়ি) : করোনা মোকাবেলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সব ধরণের গণপরিবহন রয়েছে বন্ধ। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে পার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির পাশাপাশি এতে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। ঢাকামুখী যাত্রীরা বলছেন, জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসতে হচ্ছে তাদের।
গতকালের মতো বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের এ চাপ দেখা গেছে।
ঢাকামুখীরা বলছেন, ঢাকায় গার্মেন্ট কারখানা খোলায় চাকরি বাঁচাতে ও জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকায় আসতে বাধ্য হচ্ছেন। মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঘাটে আসছেন যাত্রীরা। পরে হেঁটে ফেরিতে উঠে নদী পার হচ্ছেন তারা। তারা সকলেই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, আশুলিয়া, সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে ফিরছেন।
ঢাকামুখী এসব যাত্রীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে তারা দীর্ঘদিন বাড়িতে ছিলেন। এখন গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে। তাই তারা করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই ঢাকায় যাচ্ছেন। ঢাকায় না এলে চাকরি হারাতে হবে তাদের।
তারা ক্ষোভ জানিয়ে বলছেন, সরকার আমাদের কোন ত্রাণ দিচ্ছে না। ঘরে খাবার নেই। সরকার একদিকে ঘরে থাকতে বলে, অন্যদিকে গার্মেন্টস খুলে দিচ্ছে। চাকরি হারালে খাব কী প্রশ্ন রাখেন তারা।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের ওসি মো. মুন্নাফ জানান, তারা সার্বক্ষণিক সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। কিন্তু গতকাল থেকে গার্মেন্টস খোলার সংবাদে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। যদিও সীমিত আকারে জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারে ফেরি চলাচল করছে। যাত্রীরা সেই সুযোগে নদী পার হচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, সরকারি আদেশে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি চলাচল সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু মানুষের চাপে আমরা ঠিকমতো পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তারা সবাই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও অনান্য ছোটখাটো কারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে তাদের পারাপার এভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। মানুষকে সচেতন হতে হবে।




