খেলা

দুর্দান্ত গোল করে তাক লাগিয়ে দিলেন বাংলাদেশের মতিন মিয়া

মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে গতকাল অসাধারণ এক গোল করলেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের মতিন মিয়া। এমন গোল মেসি, ম্যারাডোনারা করলে পত্রিকার পাতায় বড় বড় শিরোনাম হতো। হইচই পড়ে যেতো বিশ্ব মিডিয়ায়। বছরের পর বছর তা আলোচনায় থাকত।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনার ছয় ফুটবলারকে কাটিয়ে করা গোল আজো সবার মুখে মুখে। মতিন মিয়ার কপালে তা কোনো সময়ই জুটবে না। তবে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাইফ স্পোর্টিংয়ের এ বদলি স্ট্রাইকার যেভাবে পাঁচ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোল করলেন তা এক কথায় অসাধারণ।
মাঠে উপস্থিতরা হয়তো কোনো দিন ভুলতে পারবেন না এ গোলটির কথা। কাল এ কৃতিত্ব এবারের লিগে মতিনের নামের পাশে তৃতীয় গোল যোগ করেছে। একই সাথে জয় নিশ্চিত হয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবেরও।
পিছিয়ে পড়া মুক্তিযোদ্ধা যেভাবে চেপে ধরেছিল তা থেকে সাইফ রক্ষা পেয়েছে মূলত তার এ পায়ের কাজেই। ২-০তে ম্যাচ জিতে লিগে চতুর্থ স্থানেই থাকল লিগের নবাগত দলটি। একই সাথে শিরোপা রেসেও। ১৫ খেলায় ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট পেছনে তারা। টানা দুই ড্রয়ের পর জয়ের দেখা তাদের। অন্য দিকে হেরে রেলিগেশন শঙ্কাতেই মুক্তিযোদ্ধা। তাদের সংগ্রহ ৮।
গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষে বিরতির পরপরই গোলের দেখা পায় সাইফ স্পোর্টিং। ৪৭ মিনিটে ওয়েডসনের থ্রু থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের প্লেসিং শটে বিপক্ষ গোলরক্ষক আজাদকে পরাস্ত করেন চার্লস শেরিংহ্যাম। ৬৭ মিনিটে অবশ্য গোলের দেখা পাননি এ ইংলিশ। ওয়েডসনের ক্রসে তার হেড ঠেকান গোলরক্ষক। ৫২ মিনিটে ব্যবধান বাড়েনি এ কিপারের দৃঢ়তায়। ওয়েডসনের লবে বলের ফাইট মিস করেন আজাদ। সে বল ড্রপ খেয়ে তার হাতের ছোঁয়া নিয়ে ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বলে জুয়েল রানা পারেননি গোল করতে। ৭৪ মিনিটে ব্যর্থ ওয়েডসনও।
এরপরই চড়াও হয় মুক্তিযোদ্ধা। তৌহিদের ফ্রি-কিক, কর্নারগুলো বাধা পাচ্ছিল সাইফের কিপার পাপ্পু হাসানের কাছে। ৮৮ মিনিটে তৌহিদ ফাঁকা পোস্ট পেয়েও সমতা আনতে পারেননি ওপর দিয়ে মেরে।
এরপর সাইফ কোচ ওয়েডসনকে তুলে নামান হ্যাম্বারকে। কিন্তু হ্যাম্বার আহত হয়ে মাঠ ছাড়লে মতিন নামেন মাঠে। নেমেই দুর্দান্ত গোল ৯৩ মিনিটে। নিজেদের বক্সে বল পেয়ে গতি আর পায়ের কাজে একে একে পরাস্ত করেন মুক্তিযোদ্ধার চার খেলোয়াড়কে। এরপর বাকি কাজটুকু সারেন গোলরক্ষককে কাটিয়ে বাম পায়ের শটে। ম্যাচ শেষে মতিন জানান, সিলেট লিগে আমার এমন ১৪-১৫টি গোল আছে।
দলের কোচ রায়ান নর্থমোরের কণ্ঠেও প্রশংসা মতিন মিয়ার গোলের। জানান, ঢাকার যে ট্রাফিক জ্যাম তাতে মতিন এভাবেই ড্রিবল করে বের হয়ে যেতে পারবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button