sliderস্থানিয়

“দলীয় পুলিশ” থেকে স্ব-মহিমায় ফেরার অঙ্গীকার পুলিশের আইজিপির

রতন রায়হান, রংপুর: বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের আমলে পুলিশকে যেভাবে দলীয় পুলিশে পরিণত করা হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে বাহিনীকে স্ব-মহিমায় ফেরানোর অঙ্গীকার করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর রেঞ্জ ও রংপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনের সামনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়

বাহারুল আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরের পুলিশ যেভাবে দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল এতে আমাদের মাঝে নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল। আমরা নানা ধরনের গণবিরোধী কাজ করেছি। জুলাই-আগস্ট মাসে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কিছু লোভী ও দলকানা নেতারা ও সদস্যের কারণে আমাদের ওপর যে দায়ভার এসেছে এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বহিমায় দাঁড় করানো এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে কাজে ফিরিয়ে আনতে গত এক বছর আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা বলব না, শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই।

আইজিপি বলেন, আমরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আগের ১৫ বছর পুলিশ যে নির্বাচন দেখেছে, সেগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা নেই। কাজেই নির্বাচনে কীভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। দেড় লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি আমরা, গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি। আশা করছি, আগামী ২০ তারিখের মধ্যে বাকি সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, যারা নির্বাচন কেন্দ্রে মোতায়েন হবেন তাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া। তারা কতটুকু সুষ্ঠুভাবে এবং বলিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, সেটা মূল্যায়ন করা। রংপুর বিভাগের যত পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করার যে উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা ও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা পুলিশের দায়িত্ব উল্লেখ করে বাহারুল বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু একা নয়, পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনে ৬ লাখ আনসার সদস্য থাকবে। এখন নির্বাচন পূর্ব অবস্থায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ প্রতিটি বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। তারা এখন আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, সরকার মন্ত্রণালয়কে বলেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে যেন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। আমি যতটুকু শুনতে পাচ্ছি, তারা চেষ্টা করছেন এবং হয়তো তা হয়ে যাবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ৮ হাজার কেন্দ্র ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার কেন্দ্র এই মোট ২৪ হাজার কেন্দ্রে পুলিশের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে এগুলো কেনা হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে বাহারুল আলম বলেন, আমরা শত শত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারছি না একটা-দুইটা করে হচ্ছে। এটা যে আমরা খুব দ্রুত করে ফেলতে পারবো, তা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে ১৩ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ২৫১টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, উপপুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমদ, রংপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button