এক সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি বাচ্চা কাককে জালের মধ্যে আটকা দেখতে পান ভারতের মধ্যপ্রদেশের যুবক শিব কেওয়াত। জাল সরিয়ে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু তারের খোঁচায় ইতোমধ্যেই ক্ষতবিক্ষত কাকছানাটির অবস্থা তখন ছিলো গুরুতর। যেকারণে শেষ পর্যন্ত মারাই যায় বাচ্চাটি।
অন্যান্য কাকেরা এই দৃশ্য দেখে শিবকেই ভেবে বসে ছানাটির হত্যাকারী। এরপর থেকেই দুর্বিসহ জীবন শুরু হয় মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার সুমেলা জেলার তরুণ এ বাসিন্দার। ঘর থেকে বের হলেই প্রতিশোধপরায়ণ সব কাক একযোগে এসে আক্রমণ করে শিবের উপর। লাঠি হাতে বেরিয়েও নিজেকে রক্ষা করতে পারেন না তিনি।
শুনতে শিবের এই ঘটনাকে গল্প মনে হলেও এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’।
আক্ষেপের সুরে শিব বলেন, ‘ওরা মানুষ হলে আমি বুঝিয়ে বলতাম। জানাতাম আমার কোনো দোষ নেই। ওদের বাচ্চাকে আমি বাঁচাতে চেয়েছিলাম। সেজন্যই লোহার জাল থেকে উদ্ধার করেছিলাম। কিন্তু তারের জালে অনেকক্ষণ ধরে আটকে বাচ্চাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া লোহার তারের খোঁচায় তার শরীরও ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল।’
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘তবে কাকেরা আমাকে কী করে এতদিন ধরে মনে রেখেছে এটাই বুঝে উঠতে পারছি না। ওরা যে এভাবে সবকিছু মনে রাখতে পারে তা বুঝতেই পারিনি। আশা করি কোনো একদিন ওদের হাত থেকে মুক্তি পাব।’
প্রতিশোধপরায়ণ কাকের দল হয়তো একদিন তাকে ক্ষমা করবে এমন আশা প্রকাশ করেন শিব।




