
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সেইসাথে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সাদা দল।
বিবৃতিতে বলা হয়- একটি জাতীয় দৈনিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে আট বছরে ৯০৭ শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে আমরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন ও ভীষণভাবে হতাশ। বিভাগের নাম উল্লেখসহ এই প্রতিবেদনে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের দৃষ্টান্তসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সাদা দল থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিয়োগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক প্রতিবাদ করে আসা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন বরাবরই আমাদের প্রতিবাদকে উপেক্ষা করেছে। ফলে পরিস্থিতি এমনই হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য সুনাম আজ প্রশ্নবিদ্ধ। মাননীয় প্রধান বিচারপতি প্রদত্ত এক আপিল রায়েও বিষয়টি উঠে এসেছে। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মসহ ভিসি প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়কে নিয়ে যেসব অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত, উৎকণ্ঠিত এবং চিন্তিত।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। উপযুক্ত শিক্ষকের ওপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম নির্ভর করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে দলীয় আনুগত ব্যক্তিদের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটে পড়বে বলে আমাদের আশঙ্কা। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নূন্যতম যোগ্যতা পূরণ না করা প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া কেবল আইন বিরুদ্ধ নয়, নৈতিকতা পরিপন্থী এবং অমানবিকও বটে। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ফলে যোগ্য এবং মেধাবী শিক্ষকদের মধ্যেও মর্ম যন্ত্রণা কাজ করে বলে আমাদের বিশ্বাস। কিছু সংখ্যক অযোগ্যদের কারণে আজ তাদের নিয়োগ নিয়েও কথা শুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব মেধাবী নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন তারা হতাশায় ভুগছেন, এমনকি অনেকে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন। এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তাই আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখিত অনিয়মসমূহের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ আখতার হোসেন খান ছাড়াও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- অধ্যাপক ড. মো: আবদুর রশীদ, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. সদরুল আমিন, অধ্যাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. দিলীপ কুমার বড়–য়া, ড. মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মোঃ এমরান কাইয়ুম, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস, অধ্যাপক মো. মাহফুজুল হক, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. হায়দার আলী, কাওসার হোসেন টগর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দীন খান, ড. আবদুল আজিজ, অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টপি, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম, অধ্যাপক ড. মো: আবুল বাশার, ড. শেখ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী, অধ্যাপক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, ইসরাফিল প্রামাণিক রতন, ড. ইয়ারুল কবির, অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, অধ্যাপক ড. মোঃ হাসান উজ্জামান, অধ্যাপক ড. মহব্বত আলী, ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক, ড. মঈনুল ইসলাম প্রমুখ।




