শিরোনাম

টাঙ্গাইলে একই রশিতে যুবক ও যুবতীর কোমর বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ওড়না দিয়ে কোমর বাঁধা অবস্থায় একই রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবক ও এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের রাজাফৈর পল্টনপাড়া এলাকায় একটি গোয়াল ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- আব্দুল বাছেদের ছেলে শাহজাহান (৪০) ও দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং একই এলাকার দানেজ আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিবাহিত শাহজাহান মিয়ার সাথে একই এলাকার গৃহবধূ আলেয়া বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা প্রায় দেড় মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার ওই নারীকে নিয়ে শাহজাহান বাড়ি ফিরে আসে। শুক্রবার সকালে আলেয়া বেগমের পূর্ব স্বামী দানেজ আলীর গোয়াল ঘর থেকে আলেয়া ও শাহজাহানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলেয়া বেগমের বাবা দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শুনেছি তারা ইসলামি শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করে পরে কোর্ট ম্যারেজও করেছিল। তারা বাড়ি ফিরে আসলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় শাহজাহানের প্রথম স্ত্রী জেসমিনসহ ভাইবউ হাজেরা ও রহিমা, ভাইপো জাহিদ, ভাতিজা বউ ঝরনা, ভাতিজি মীম, ভাইয়ের শ্যালিকা ইয়ারজানের মেয়ে অজ্ঞাতসহ কয়েকজন শাহজাহান ও আলেয়াকে মারধর করে। পরে সকালে তাদের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়, দুজনের কোমর ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিল, তাদের পা ছিল মাটিতে। এটা আত্মহত্যা হতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।
নিহত শাহজাহানের মা শাহীনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে শাহজাহানের সঙ্গে আলেয়ার সম্পর্ক ছিল। তারা বাড়িতে ফিরে এলে শাহজাহানের প্রথম স্ত্রী জেসমিন তার বাবার বাড়ির লোকজনকে নিয়ে তাদের মারধর করে। পরে সকালে তাদের লাশ পাওয়া যায়।
শাহজাহানের প্রথম স্ত্রী জেসমিনের বাবার বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছোহরাব আলী সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। তাদের পা মাটিতে ঠেকানো ছিল ও রক্তও পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
কালিহাতী থানার ওসি সওগাতুল আলম এ বিষয়ে বলেন, দুজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এডিশনাল এসপি মো. শাহিনুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে আত্মহত্যা না অন্য কোনও কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button