sliderস্থানিয়

ঝালকাঠিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে বিএনপি নেতা কারাগারে

মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগে আটক সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপলকে (৫৫) জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ঝালকাঠি সদর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হলে চিফ জুডিনিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর বিচারক এইচ এম কবির হোসেন এ আদেশ দেন। এ সময় আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের চাদকাঠি তিন ঘাটলা এলাকার একটি বাসা থেকে চপলকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ও নাভানা টাওয়ার মার্কেটের জুয়েলারি ডাকাতি মামলায় চপলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া গত ৫ই আগস্টের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হলেও তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির অভ্যন্তরে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্ধ চলছিল। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কীর্ত্তিপাশা বাজারে এ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ওই সময় ছাত্রদল নেতা আকাশ বেপারীসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর চপলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকেও মারধর করা হয়।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মী মো. সবুজ বেপারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে চপলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান-এর আহ্বানে দেশব্যাপী জুমা-পরবর্তী দুয়া কর্মসূচি থাকলেও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকায় এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়। নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনার সূত্রপাত। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ আহমেদ বলেন, তারা থানায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার পরও চপলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরওয়ার্ডিং না পাওয়ায় আদালতে জামিনের আবেদনও করা সম্ভব হয়নি।

ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর কোর্ট পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় জানান,“তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। ৫৪ ধারার ফরোয়াডিং এ চপলের বিরুদ্ধে ধর্তব্য অপরাধ করার প্রস্তুুতির অভিযোগ আনা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button