sliderরাজনীতিশিরোনাম

জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দি মানুষের দুর্দশা লাঘবে আ.লীগ-বিএনপি’র একই আচরণ—এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পানিবন্দি মানুষের দুর্দশা লাঘবে আওয়ামীলীগ, ইন্টেরিম ও বিএনপি’র একই সূর এবং একই আচরণকে দূ:খজনক বলে অভিহিত করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
অবিলম্বে সরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন‍্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বাবদ যতটাকা লুটপাট হয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
আজ দুপুর ১২ টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়-৭১ চত্বরে এবি পার্টি আয়োজিত ‘বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপন্ন মানবতার ভোগান্তি ও দুর্ভোগ’ শীর্ষক গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান,শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, শ্রমিক নেতা শাহ আব্দুর রহমান এবং ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্সসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ব্যক্তিবর্গ।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যার কষ্ট, সে-ই কষ্ট বোঝে। যাদের কষ্ট হয় না, তারা মানুষের দুর্ভোগ উপলব্ধি করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জনগণ তার সুফল পায়নি। এই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, কারা দায়ী,মেয়র, প্রশাসক, মন্ত্রী, সচিব কিংবা ঠিকাদার সবকিছুর নিরপেক্ষ তদন্ত করে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি নয়, সমাধানের রাজনীতি করতে হবে। আওয়ামীলীগের আমলে নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব‍্যয় করা ১৩০০৪ কোটি টাকা ও ইন্টেরিম সরকারের সময় ব‍্যয় হওয়া ৩৪৫ কোটি টাকার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএনপি সরকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার যে বাজেট বরাদ্দ করেছে তা ব‍্যয়ের পরিকল্পনা জনসমক্ষে তুলে ধরার দাবি জানান তিনি।

সরকারি দলের মন্ত্রী ও এমপিদের কথা ও আচরণের সমলোচনা করে জনাব মঞ্জু বলেন, বিএনপির মন্ত্রী ও নেতারা আচরণ ও কথাবার্তায় তারেক রহমানকে অনুসরণ না করে ফ‍্যাসিস্ট হাসিনাকে অনুসরণ করছে। তাদের উচিত নিজের নেতার চলন বলেন আচরণে যে নমনীয়তা তা অনুসরণ করা।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন শিক্ষার্থীদের প্রতিবার রাজপথে নেমে তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জনগণের সমস্যা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে কেন? এরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার বলেন, এবি পার্টি জনগণের কষ্টের কথা শুনতে এবং বাস্তব সমস্যাগুলো জানতে এই গণশুনানির আয়োজন করেছে। সময়মতো নগরের খাল-নালা ও জলাধার সংস্কার করা হলে আজ নগরবাসীকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে শ্রমিক নেতা শাহ আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদরা নদী নালা রাস্তা ঘাট ফুটপাত সব খেয়ে ফেলে যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ মেয়াদি অনিয়মের ফলে এসব জলবদ্ধতা সৃস্টি হচ্ছে।

পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির নেতা গাজী নাসির বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর পানিতে তলিয়ে যায়। অথচ মানুষের কষ্ট লাঘবের পরিবর্তে দায়িত্বশীলদের অসংবেদনশীল মন্তব্য জনগণকে আরও হতাশ করে।

কানাডা প্রবাসী শমসের আলী হেলাল বলেন, বন্যা ও জলবদ্ধতা আমাদের আবারও এক করে দিয়েছে। বন্যা ও জলবদ্ধতা নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট সুলতানা রাজিয়া তাঁর এলাকার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ তুলে ধরেন এবং সমাধানকল্পে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শাপলা আক্তার বলেন, বর্ষাকালে রাস্তা খুঁড়ে সংস্কার কাজ না করে শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা উচিত।
কানাডা প্রবাসী সমাজসেবক শমসের আলী হেলাল বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা আমাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।
ছাত্র প্রতিনিধি মফিদুল ইসলাম বলেন, চলমান জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এবং সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

কর্মজীবী নারী শাহিনুর আক্তার শিলা বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে যেভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল।

এছাড়া গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী শাজাহান ব্যাপারী, উদ্যোক্তা বারকাজ নাসির আহমদ, নারী সংগঠক আমেনা বেগম, বাড্ডা অঞ্চলের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন শিবলু, সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দা মোহসীনুল হক চৌধুরী ও বাসচালক মনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর,যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button