sliderজাতীয়শিরোনাম

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক-এর শোক সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্মরণে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা উন্নয়ন কমিটি”র উদ্যোগে ১৫ জুলাই, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় বাংলা একাডেমির ড. এনামুল হক ভবনের ২য় তলা, কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, ৬৯ এর গণ—অভ্যুত্থানের মহানায়ক শ্রদ্ধেয় নেতা ড. মাহবুব উল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলা উন্নয়ন কমিটি’র প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ এর পরিচালনায় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতেই প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শোক সভায় উপস্থিত আলোচকবৃন্দ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি একটি কথায় সারাজীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন– তা হলো “আমি বিচার চাই না, মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক”।

বক্তারা আরও বলেন,প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক, সাহিত্যিক, মানবপ্রেমী, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক, সর্বপরি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক একজন ‘সোনার মানুষ’। তিনি আরও বলতেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ যতোনা ক্ষতিকর, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক আমেরিকা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, পূর্ববাংলা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা বাংলা আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁর দেশপ্রেম ও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ শুরু হয়। আবুল কাসেম ফজলুল হক ভাই প্রকৃত অর্থেই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক চিন্তাবিদ। তাঁর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

শোকসভায় প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল বাশার, রাষ্ট্রভাষা বাংলা উন্নয়ন কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কামরুজ্জামান, অধ্যাপক মোর্শেদ শফিউল হাসান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব বোরহান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পার্টি’র সভাপতি আঃ গফুর মিয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ মাহবুব) এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদ ভূইয়া, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল)’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফুল কবির, স্বদেশ চিন্তা সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবি হাসান ফকরী, সমাজ চিন্তা ফোরামের আহবায়ক কামাল হোসেন বাদল, বাংলাদেশ ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. চিন্ময় হাওলাদার,রাষ্ট্রভাষা বাংলা উন্নয়ন কমিটি’র সহ—সভাপতি সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, এম এ সবুর, সহ—সভাপতি আসাদুর রহমান খান, ম.ইসমাইল হোসেন, সহ—সভাপতি শহীদ ভাষা সৈনিক আব্দুল জব্বারের নাতনী আফরোজা বেগম, প্রচার সম্পাদক এম.এম মাসুদ, মহিলা সম্পাদিকা কবি ও সাংবাদিক রেহানা সুলতানা, রাষ্ট্রভাষা বাংলা উন্নয়ন কমিটির সদস্য এম. এম ওবায়দুল্লাহ জয়, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ স্মৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান খান, আব্দুর রহমান খান রাজিব, ইবনুল সাঈদ রানা, অলোক চৌধুরী, বকুল ইমাম প্রমূখ।

রাষ্ট্রভাষা বাংলা উন্নয়ন কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা সকলে মিলে সমাপ্ত করবো। বিশিষ্ট সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্য জাতীয়ভাবে শোকসভা পালন করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্যারের প্রণীত “আমাদের মুক্তি ও উন্নতির কর্মসূচি ২৮ দফা,” সর্বজনীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সর্বস্তরে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রচলনের আকাঙ্খা ও চেষ্টা এবং একটি স্মারকগ্রন্থ ইত্যাদি কাজগুলো আমরা সমাপ্ত করবো।

আলোচক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, স্যার যে ঘরানার চিন্তা করতেন, তাহলো একাডেমিকের বাইরে কোনো কাজ তিনি করেন নাই। জনাব আবুল কাসেম ফজলুল হক তাঁর দর্শনের জায়গা থেকে চুল পরিমানও নড়েন নাই।

অধ্যাপক মোর্শেদ শফিউল হাসান বলেন, মওলানা ভাসানীর কথা বলতে গিয়ে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ছোট করেননি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি নামটাই সঠিক ছিল। প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রভাষা বাংলা নাই। রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য এদেশের জব্বার, রফিক, বরকতরা শহীদ হয়েছেন। আর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনই স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়, তৎপর স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমরা জয়লাভ করি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রভাষা আর মাতৃভাষা এক নয়। যাঁরা মাতৃভাষা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালন করেন তাদের প্রতি আমার আহ্বান, রাষ্ট্রভাষা বাংলা সর্বস্তরে প্রচলনের জন্য কাজ করেন, তারপর আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করেন।

শোকসভায় সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল বাশার বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের রাজনীতি সমাজতন্ত্র দিয়ে শুরু কিন্তু শেষ অবধি সমাজতন্ত্র থেকে সড়ে এসে সর্বজনীন গণতন্ত্রের কথা বলেছেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব বোরহান আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, স্যারের সঙ্গে আমার অনেক কথা হয়েছে, তাঁর সাথে প্রশ্ন করা যেত, কোনো সময় রাগ করে কথা বলতে দেখিনি।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা সমাপ্ত করবো এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button