জঙ্গিবাদের উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

যারা ধর্মের নামে তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়াতে উসকানি দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যাদের কোনো অভাবে নেই, ভালো খায়, ভালো পড়ে, তারাই এখন জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে। যেখানে তাদের জন্য কোনো কিছুই অপূরণীয় থাকে না, সেখানে কেন তারা এটা করছে, এর যৌক্তিকতা কী? তারা এখন বেহেস্তের হুর পরী পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, এর কী যৌকিক্ততা? কারা তাদের পেছন থেকে উসকাচ্ছে?
ঢাকার গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সাম্প্রতিক দুটি জঙ্গি হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে আজ রোববার বিকেলে গণভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে সাম্প্রতিক এশিয়া-ইউরোপ (আসেম) শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় উলানবাটোর থেকে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। এর আগেও বিদেশ সফরের পর বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে বিদেশ সফরের বাইরেও দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ খুন করলে বেহেস্তের দড়জা খোলে না। এই তরুণদের কারা অস্ত্র দিচ্ছে, কারা অর্থ যোগাচ্ছে, তাদের তথ্য সম্মিলিতভাবে খুঁজে বের করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে গুলশানে দেশের নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেও এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আজ জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। গুলশান হামলার বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের জানিয়েছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আবারও না ঘটে, তার সব ব্যবস্থা বাংলাদেশ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছি। তিনি বলেন, গুলশান ঘটনায় জাইকার সহায়তা বা অন্য কোনো প্রকল্পে জাপানের অর্থ ছাড়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জাপান সরকার জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ধরনের হামলার ঘটনায় বিশ্ব নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে বাংলাদেশের কোনো ঘটনা ঘটলে তা নেতিবাচকভাবে দেশের মিডিয়াই আগে তুলে ধরে। তারাই আগে সেই ঘটনার লাইভ করে দেখায় কোথায় লাশ পড়ে আছে, কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ফলে বিশ্ব মিডিয়াগুলো সেগুলো প্রকাশ করে। এতে দোষটা কার সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।
সাংবাদিকদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই ক্ষমতায় এসে দেশকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা করেছে। আর অন্যরা নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে কাজ করেছে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মানুষের জন্য পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে। সাংবাদিকরা সেটা কখনও লেখেননি। কিন্তু আমি তখন থেকেই এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। কারণ আমি চ্যালেঞ্জ নিতে জানি। আমরা এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। যা তারা কখনও চিন্তা করেনি।
আসেম সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশ, তুরস্ক ও ফ্রান্স হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিয়ে তুরস্কের মানুষ প্রমাণ করেছে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের আসেম সম্মেলনে তিনটি দলিল গৃহীত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, মিয়ানমার ও ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে।




