শিক্ষাশিরোনাম

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের কারণ ফেসবুকের ছবি!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে ৪ জন। এছাড়া আরো কমপক্ষে ১১জন আহত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাতে জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা সভাপতি তরিকুল ইসলামের ছবি ক্রপ (মূল ছবি থেকে কেটে বাদ দেয়া) করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এরপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরাও এর বিপক্ষে ফেসবুকে পোস্ট ও কমেন্টে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী উদ্ভিদবিজ্ঞান ১৩তম ব্যাচের সালমান এফ রহমান, সৈয়দ অভি, মনোবিজ্ঞান ১৩ তম ব্যাচের তানভীর, গণিত ১৩তম বিভাগের শান্ত, এবং পরিসংখ্যান বিভাগের অর্পণের নেতৃত্বে ভাস্কর্য চত্বরে থাকা সভাপতি গ্রুপের কর্মী কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শাকিলের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়।
এরপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা বিভিন্ন দিক থেকে একত্রিত হতে থাকলে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হতে থাকে। এক সময় ১৩তম ব্যাচের শাহিরুল উম্মি, ১২তম ব্যাচের পিয়াল এবং ১১তম ব্যাচের সানের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের উপর হামলা করে। সাধারণ সম্পাদক এতে ১২ তম ব্যাচের সাহেদ, ইতিহাস ১২তম ব্যাচের নূরে আলম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১১তম ব্যাচের পারভেজ আহত হয়। সংঘর্ষে পিয়ালের আঘাতে নূরে আলম মারাত্মক ভাবে আহত হয়।
উল্লেখ্য, নূরে আলম এর আগেও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার কারণে সম্প্রতি বহিস্কৃত হয়েছেন।
এর একটু পরেই দুপুর ১২ টর দিকে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের ছেলেরা হাতে রড, চাপাতি, হাতুরী নিয়ে আক্রমন করে সভাপতি গ্রুপের কর্মীদের উপর। এতে সভাপতি গ্রুপের একাউন্টিং ১৩ ব্যাচের নাফিজ এবং হাতুরীর আঘাতে গণিত বিভাগের নাহিদের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, বাসে বসা নিয়ে সিনিয়র জুনিয়রের মাঝে ভূল বুঝাবুঝি হয়। আমরা তা সমাধান করে দিয়েছি। তবে তার কর্মীদের হাতুরী, চাপাতি নিয়ে আক্রমনের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, বাসে বসা নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধান করা হয়েছে। তাছাড়া ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা তিনি অস্বীকার করে বলেন, এরকম কিছু নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড.নূর মোহাম্মাদ বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সকাল থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। আমরা গণমাধ্যমের সংবাদ এবং সিসি টিভি ফুটেজ দেখে এই বিষয়ে কঠিন পদক্ষেপ নিবো। বহিস্কৃতদের ভিতর যারা ক্যাম্পাসে অরাজকতা করছে তাদের ব্যাপারেও কঠোর পদক্ষেপ নেব। বহিস্কৃতদের কে আমরা সন্তানের মত দেখি বলেই এতদিন আমরা নমনীয় ছিলাম এবার ছাড় দেওয়া হবে না

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button