
নিজের ভাগ্য বদল করেছেন। বদলে দিয়েছেন কোটি কোটি পরিবারকে। বিনিময়ে নিজের দেশ চীনকে করেছেন অর্থনৈতিকভাবে পরাক্রমশালী। কমিউনিস্ট শাসিত দেশটিতে এমন ব্যবসায়ীর অভাব নেই। তাদের মধ্যে থেকে চিনে নিন ‘সবার সেরা’ পাঁচজনকে।
২০ বছর আগে হাংঝু শহরের একটি লেকসাইড অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আলিবাবার যাত্রা শুরু করেন মা। ১৯৯৯ সালে শিক্ষকতা করতে করতে এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। তার হাত ধরে এটি যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানি, ঠিক তখন তিনি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব ছেড়েছেন। প্রধান দায়িত্ব ছাড়লেও নানাভাবে এর সঙ্গে যুক্ত আছেন এখনো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার গণিতে ১ পাওয়া মানুষটি কিছুদিন আগে বাংলাদেশকে কিট পাঠিয়ে সাহায্য করেছেন।
২. রেন ঝেংফেই (হুয়াওয়ে): ফরচুনের তালিকায় ঝেংফেই দ্বিতীয়। ১৯৮৭ সালে পকেটে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ ডলার নিয়ে কী করা যায় এমন ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন হুয়াওয়ে।
২০১৫ সাল থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম টেলিকম নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি নির্মাতা হুয়াওয়ে। এ ক্ষেত্রে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী এরিকসন, নকিয়া, জেডটিই ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের চেয়ে এগিয়ে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এটি মার্কিন স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল’কে টপকে স্মার্টফোনের বাজারে দুই নম্বর অবস্থান দখল করে নেয় এবং এক নম্বরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে।
৩. ওয়াং চোয়ানফু (বিওয়াইডি): চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট একটি গ্রামের কৃষক পরিবারে চোয়ানফুর জন্ম। ছেলেবেলায় মা-বাবা মারা যাওয়ায় বড় ভাই-বোনের কাছে মানুষ হন। হাইস্কুল শেষ করে রসায়নের প্রতি আগ্রহ জন্মে। অনেক কষ্টে পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করা সেই ছেলেটি এখন চীনের অন্যতম সেরা ধনী। শেনঝেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির মালিক!
৪. মা হুয়াতেং (টেনসেন্ট): চীনের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট হোল্ডিংসের মালিক তিনি। তার প্রতিষ্ঠান প্রথম এশীয় কোম্পানি হিসেবে ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বাজারমূল্য ছাড়ায় দুই বছর আগে!
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর তালিকা অনুযায়ী টেনসেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মা হুয়াতেং গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সার্জেই ব্রিনের চেয়েও বেশি সম্পদশালী! আগের তিনজনের মতো তিনিও সাধারণ পরিবারের সন্তান।
৫. ঝাং ইয়েমিং (বাইটড্যান্স): ২০১২ সালে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করে সাত বছর বাদে চীনের অন্যতম সেরা ধনী হয়ে গেছেন উদ্যোক্তা ঝাং ইয়েমিং। তার এমন উত্থানের কারণ ছোট ভিডিও বানানোর অ্যাপ টিকটক।
বাইটড্যান্স ২০১৬ সালে টিকটক অ্যাপ আনে। এখন সারা পৃথিবীতে মাসে ৫০০ মিলিয়ন অ্যাকটিভ ব্যবহারকারী রয়েছে তাদের। ফেইসবুক, ইউটিউবকে ছাড়িয়ে এটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিবার ডাউনলোড হওয়া অ্যাপ।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ঝাং নানকাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে বিরতি নেন। ওই বছর নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলারের ফান্ড সংগ্রহ করেন। এক বছর বাদে আরও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান তাকে অর্থ দিতে শুরু করে।
সুত্র : দেশ রূপান্তর।




