বিনোদন

চলে গেলেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’র নীতা

তাকে বর্ণনা করা হতো ভারতের ‘সোফিয়া লরেন’ বলে। দারুন আকর্ষণীয় চেহারা এবং সেই সাথে চমৎকার অভিনয় দিয়ে তিনি ভারতীয় বাংলা ছবিতে রীতিমত আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ষাটের দশকে।
‘মেঘে ঢাকা তারা’ আর ‘চৌরঙ্গী’র মতো বিখ্যাত ছবির এই নায়িকা শুক্রবার ৮৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন কলকাতায় নিজের বাড়িতে।
ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই তার মেয়েকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
সুপ্রিয়া চৌধুরী ছিলেন পাঁচ দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে নামকরা তারকারদের একজন। উত্তম-সুচিত্রা জুটির মতোই উত্তম-সুপ্রিয়া জুটিও সেই সাদাকালো যুগের বাংলা ছবির দর্শকদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল।
রূপালি পর্দার বাইরে এই দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অনেক আলোচনা ছিল সেসময়। সুপ্রিয়া চৌধুরি তাদের সম্পর্ককে অবশ্য ‘বন্ধুত্ব’ বলেই বর্ণনা করেছেন।
বলিউডের ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন। বলিউডে তার প্রথম কাজ করার সুযোগ হয় ধর্মেন্দ্রর বিপরীতে ‘বেগানা’ ছবিতে। তবে তার জীবনের একটি খেদ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের কোন ছবিতে তিনি কখনো অভিনয়ের সুযোগ পাননি।
সুপ্রিয়া চৌধুরির জন্ম মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশের মিয়িতকিনায়। তার বাবা গোপাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ছিলেন একজন আইনজীবী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক ভারতীয়কে বার্মা ছাড়তে হয়েছিল। সেই সময় তাদের পরিবারও কোলকাতায় চলে আসেন।
১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ দিয়ে তার ফিল্ম ক্যারিয়ারের শুরু। এই ছবিতে বাংলা ছবির আরেক বড় তারকা উত্তমকুমারও অভিনয় করেছিলেন। পরবর্তীকালে উত্তম-সুপ্রিয়া জুটির ‘সোনার হরিণ’ ছবিটি ছিল সেই যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যবসা সফল ছবিগুলোর একটি।
‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিতে নীতার চরিত্রের জন্যই হয়তো বেশিরভাগ দর্শকের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এই কিংবদন্তীতুল্য অভিনেত্রীর প্রয়ানে তিনি শোকাহত।
ভারত সরকারের ‘পদ্মশ্রী’ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সন্মাননা ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সহ জীবনে আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন সুপ্রিয়া চৌধুরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button