
বেশ কিছুদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন। না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বব রবার্ট ওয়েটন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১১২ বছর।
ওয়েটনের পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারে নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। সেখানেই স্বাধীনভাবে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। পেশাগত জীবনে প্রকৌশলী ও শিক্ষক ছিলেন ওয়েটন।
ওয়েটনের জন্ম উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে, ২৯ মার্চ ১৯০৮ সালে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১১২ বছর ৩৫৫ দিনে জাপানের চিতেতসু ওতানাবের মৃত্যু হলে ওয়েটনকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
ওয়েটনের পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বব ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। বয়সের দিক থেকে চমক জাগানিয়া সংখ্যায় পৌঁছানোর জন্যই নয়, তিনি আমাদের সবার জন্য ছিলেন অনুসরণীয়। উপভোগ্য জীবন কাটিয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে সব ধরনের মানুষের তার ওঠাবসা ছিল।”
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুক অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পরই খুব একটা উৎফুল্ল হননি ওয়েটন। নিজেকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, কেবল দীর্ঘ সময় বেঁচে কারণেই এই স্বীকৃতি এসেছে।
সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ওয়েটন। ষোলো বছর বয়সে স্কুলের গণ্ডি শেষ করে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর চলে যান তাইওয়ানে। সেখানে দুই বছর কাটান, শেখেন মান্দারিন ভাষা। পাশাপাশি একটি স্কুলে শিক্ষকতাও করেন।
১৯৩৭ সালে সহকর্মী শিক্ষিকা অ্যাগনেসকে বিয়ে করেন ওয়েটন। দু’বছর পর ফের ইংল্যান্ড ছাড়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চলে যান কানাডায়, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে ফেরেন ইংল্যান্ডে। লন্ডনে ফিরে সিটি ইউনিভার্সিটিতে পড়ান ওয়েটন। ১৯৯৫ সালে মারা যায় তার স্ত্রী।
দুই ছেলে ও এক কন্যার বাবা ওয়েটনের মৃত্যুকালে ছিল ১০ নাতি-নাতনি ও ২৫ প্রপৌত্র। দেশ রূপান্তর




