খেলা

চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা জিতল তেরেঙ্গানু

জামাল ভুঁইয়ার অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরার হাতছানি ছিল। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ভরা গ্যালারিও মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিল। কিন্তু শুরুর ২০ মিনিটের ঝড় আর সামাল দিয়ে ফিরে আসা হলো না চট্টগ্রাম আবাহনীর। সব আয়োজনে পানি ঢেলে ঘরের দলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মালয়েশিয়ার ক্লাব তেরেঙ্গানু শেখ কামাল ক্লাব আন্তজার্তিক ক্লাব কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে।
টুর্নামেন্টে এর আগেও প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুইবার পেছন থেকে ফিরে এসে ম্যাচ জিতেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। প্রথম ২০ মিনিটেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লুকা রতকোভিচ দুর্দান্ত এক গোল করে জাগিয়ে তুলেছিলেন ঘরের সমর্থকদের। কিন্তু মারুফুল হকের দল ফাইনালে আর ফিরতে পারেনি। তেরেঙ্গানুর শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে তাদের।
তেরেঙ্গানু ম্যাচটা প্রায় নিজেদের করে নিয়েছিল শুরুতেই। ইংলিশ স্ট্রাইকার লি টাককে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনর কথা ম্যাচের আগে জানিয়েছিলেন মারুফুল। কিন্তু সেটা কাজে আসেনি। সাবেক ঢাকা আবাহনী স্ট্রাইকারের কর্নার থেকে হেড করে ম্যাচের ১৫ মিনিটে হাকিম মামাত দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর খেই হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণ।
মিনিট পাঁচেক পর রক্ষণের ভুলের সঙ্গে গোলরক্ষক মোহাম্মদ নেহাল করেছেন দৃষ্টিকটু এক ভুল। তেরেঙ্গানুর আজলিনুল্লাহ আবাহনী ডিফেন্ডার জন ইকবলকে ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বক্সের ভেতর। ছিলেন বাম কোণায়। সেখান থেকে গোল করাটা কঠিনই ছিল। কিন্তু নেহাল সামনে এগিয়ে এসে কঠিন কাজটাই সহজ করে দিয়েছেন। নেহালের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে আজলিনুল্লাহর বাম পায়ের নিচু শট কাছের পোস্ট ঘেঁষে ঢুকে যায় আবাহনীর জালে।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে এরপর বিরতির আগে ইনজুরির কারণে রহমত মিয়াকে হারিয়ে আরও পিছিয়ে পড়ে চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে এর আগে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিল তারা ম্যাচে ফেরার। ৩৩ মিনিটে তেরেঙ্গানু গোলরক্ষক মিলহাম আমিরুল্লাহ পাস রিসিভ করতে গিয়ে গড়বড় পাকিয়ে ফেললেও লুকা তখন সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
অবশ্য বিরতির দুই মিনিট পর সেই লুকাই আবাহনীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। চিনেদুম্যাথুর ক্রস পাস বক্সের ভেতর পেয়ে বাম পায়ের জোরালো শটে গোল করেন মন্টেনেগ্রোর স্ট্রাইকার। এরপর নতুন প্রেরণা নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার কথা ছিল আবাহনীর। তবে তেরেঙ্গানু সেটা হতে দেয়নি। নিজেরা গুছিয়ে আক্রমণে উঠে আবাহনীকে রক্ষণেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত রেখেছিল মালয়েশিয়ার লিগে গতবার সপ্তম হওয়া দলটি।
তবে ৭০ আর ৮০ মিনিটে দুইটি হাফ চান্স পেয়েছিলেন সেই লুকাই। একবার শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। চিনেদু ম্যাথু, চার্লস দিদিয়েররা পুড়ো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেললেও ফাইনালে রঙ হারিয়েছেন। জামাল ভুঁইয়াও স্বভাব সুলভ ফুটবল খেলতে পারেননি এদিন। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন মেজাজ হারিয়ে। শেষ দিকে গোলের আশায় কাউসার রাব্বিকেও মাঠে নামিয়েছিলেন মারুফুল হক। তবে এদিন তিনিও দারুণ কিছু করে ম্যাচের ফল বদলাতে পারেননি।
তেরেঙ্গানু তাই কোনো ম্যাচ না হেরেই প্রথমবারের মতো এএফসির কোনো টুর্নামেন্ট জিতে গেল চট্টগ্রামে এসে। নিজেদের দল না জিতলেও ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের সমর্থকেরাও তাদের বরণ নিয়েছেন বিজয়ীর মতো। দর্শকদের সঙ্গে নিয়ে লি টাকরা শেষে দিয়ে গেছেন ভাইকিংস ক্ল্যাপও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button