চট্টগ্রামে বিপজ্জনক ১৭ পাহাড় : যে কোনো সময় ধসের আশঙ্কা

টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর ১৭টি পাহাড়ে তৈরি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ।দিনে নয়তো রাতে এসব পাহাড় কেটে কেউ গড়ে তুলেছে জনবসতি, কেউবা তুলছে দোকানপাট, শিল্প কারখানা, কিংবা বানাচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প অথবা আবাসন। কিন্তু স্থায়ীভাবে কাউকে পুনর্বাসন না করায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনকারীদের সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার দিনভর নগরীতে টানা বৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরীর কয়েকটি এলাকায় কিছু সময়ের জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ভারি বৃষ্টিতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, অক্সিজেন এবং হালিশহরের বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে দুপুরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সপ্তাহের শেষ দিনে অফিস-আদালতগামী নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়েন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবারের সর্তক বার্তাতেই চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো কোনো এলাকায় ভূমি ধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে ছয়টি দল ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং শুরু করে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদু্ল ইসলাম বলেন, মতিঝর্ণা-বাটালিপাহাড়, ফয়’জ লেক সংলগ্ন ঝিল এলাকা, চান্দগাঁও এলাকাধীন মিয়ার পাহাড়, ট্যাংকির পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়।
ছয়টি সার্কেলের সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) বিভিন্ন এলাকায় এই কাজ তদারকি করেন।
পাশাপাশি আটটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন।
এগুলো হলো পাহাড়তলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কোয়াড পি-ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশ্ব কলোনী, চট্টগ্রাম মডেল হাই স্কুল, জালালাবাদ বাজার সংলগ্ন শেড, আল হেরা ইসলামিয়া মাদ্রাসা, রৌফাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পোড়া কলোনি ছৈয়দাবাদ স্কুল।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছর মে ও জুলাই মাসে দুই দফায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে প্রায় ৭৫০ টির মতো ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদের পর ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন পাহাড়গুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেসব পাহাড়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দেয় সেসব ব্যক্তি বা সংস্থার।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট ১০৪ দশমিক চার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে।মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি ভূমি ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে।তাই মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যারা বসবাস করছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হলেও এখনও তারা আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি বলে জানা গেছে।
পূর্বপশ্চিম




