Uncategorized

ঘিওরে চেয়ারম্যানের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

সরকারী কর্মকর্তা ও এক মেম্বার মারপিটের শিকার

মানকিগঞ্জ প্রতনিধিি ॥ মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সংবাদ সংগ্রহ করার সময় ক্যামেরা কেড়ে নেয়াসহ সাংবাদিকদের হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসের এক কর্মকর্তা ও ৫নং ওয়ার্ডের এক সদস্যও ওই চেয়ারম্যানের লোকজনের রোষানলে পরে লাঞ্ছিত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে সিংজুড়ি বাজার এলাকায়। মোহনা টিভির মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি সালাউদ্দিন রিপন ঘিওর থানায় চেয়ারম্যান ও তার ছেলেসহ ১০ জনকে দায়ী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘিওর উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জনসাধারনের পক্ষ থেকে সিংজুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে কাবিখা, ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প, ভিজিডি কার্ড বিতরনসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন । জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহম্মেদ মুকুল তদন্ত করতে যান।
তদন্ত শেষে মোটরসাইকেলে ওই ইউনিয়নের তিনি ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল বাকেজকে নিয়ে ফিরে আসার সময় চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের ছেলে দুলাল ও তার সহযোগী শহিদ, সুবজসহ কয়েকজ তাদের ওপর হামলা চালায়। চেয়ারম্যানের লোকজন লাথি দিয়ে ইশতিয়াক আহম্মেদ মুকুলকে মটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়া । এসময় হামলাকারীরা ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল বাকেজকে বেদম মারপিট করে। তিনি দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।
অপরদিকে অনিয়মের তদন্তের খবর পেয়ে দৈনিক সংবাদের ঘিওর প্রতিনিধি রামপ্রসাদ সরকার দিপু, ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শফি আলম এবং মোহনা টিভি ও ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক সালাউদ্দিন রিপন ঘটনাস্থলে পৌছায়। সাংবাদিকরা ক্যামেরা চালানোর সাথে সাথে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের ওপরেও হামলা হয়। হামলাকারীরা সালাউদ্দিন রিপনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনাস্থলে থাকা ইত্তেফাকের সাংবাদিক শফি আলম জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তার ছেলে দুলালসহ কয়েকজন এই হামলায় সরাসরি অংশ নেয়।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা খন্দকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন সিংজুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এব্যাপার সিংজুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ সাংবাদিক এবং সরকারী কর্মকর্তাকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল বাকেজকে মারধর করার কথা স্বীকার করলেও এর সাথে তিনি বা তার ছেলে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সাংবাদিক সালাউদ্দিন রিপন বাদি হয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ তার ছেলেসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button