slider

গোবিন্দগঞ্জে সিল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসার কমিটি গঠন

ওয়াজেদ আলী, গোবিন্দগঞ্জ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বানেশ্বর বাহারুল উলুম নোমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে বোর্ড থেকে অনুমোদন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সত্যতা স্বীকার করে বলেন শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কমিটির একটি কাগজ আনঅফিসিয়ালি আমার দপ্তরে এসেছে। এই কমিটির অনুমোদন করতে আমার অফিসের নির্বাচনি তফসিল, নির্বাচনি ফলাফল ও অন্যান্য কাগজপত্রে সিল-স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করেছে।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সুপার বিধিমতে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষে গত ৭ আগস্ট ২০২২ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। আবেদন সূত্রে ৮ আগস্ট প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ সহ যথানিয়মে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে মনোনীত করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসার ২২ আগস্ট নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করে। তফশিলে ২৮, ২৯ ও ৩০ আগস্ট মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদান, যাচাই ১ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহার ৪ সেপ্টেম্বর এবং নির্বাচন ১৬ সেপ্টেম্বর। ধার্য তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্ত নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ না করায় বিক্ষুব্ধ প্রতিদ্বন্দ্বিরা গত ১৩ নভেম্বর আদালতের (৩১৪/২০২২/অন্য) আশ্রয় নেয়। এর মধ্যেই এ্যাডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার প্রদান করেন।

ইতিমধ্যে একটি মহল গোপনে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র সৃষ্টি করে শিক্ষাবোর্ডে দাখিল করে নিয়মিত একটি কমিটি গঠন করে। বামাশিবো/প্রশা/২২৪২২১২১২৮৬১/৭৩৭৬০/নথি নং-২৫৩, তারিখ: ২৩-১১-২০২২ এর প্রজ্ঞাপনে এই কমিটিতে সভাপতি মো. রেজাউল করিম রছুল, অভিভাবক সদস্য পদে রুবেল মিয়া, আলম মিয়া, সোহাগ মিয়া, সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য পদে ঝরনা বেগম, শিক্ষক সদস্য আল আমিন, আব্দুল জলিল, সংরক্ষিত আরেফীন জাহান ও সুপারকে সদস্য সচিব করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বৈধ মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ব্যক্তিরা ছিলেন আ. মালেক, ওবায়দুল, জাহিদুল ইসলাম, মাহমুদা, জবা কুসুম রীতি, আব্দুল জলিল, বিউটি খাতুন। এদেরকে কমিটিতে অন্তভ’ক্তি করার বিধি থাকলেও তা না করে নতুন নাম দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়াও তারা নির্বাচনের তফশিল ও নির্বাচনি ফলাফল তৈরিতে জালিয়াতি করেছে।

এ ব্যপারে অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার ফিরোজ আলম জানান, অনুমোদিত কমিটির ব্যক্তিরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করেছেন। তাদেরকে বিজয়ী করে আমি কোনো ফলাফল প্রকাশ করিনি।

প্রতিষ্ঠানের সুপার মো. আব্দুল ওহাব জানান, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বকশী বাজার, ঢাকায় স্বশরীরে হাজির হয়ে রেজিস্ট্রার বরাবরে অভিযোগ ফি দুই হাজার টাকা জমা করে অভিযোগ করেছি। এছাড়াও এই ভুয়া কমিটি বাতিল করে বৈধ কমিটি অনুমোদনের জন্য এক হাজার টাকার ফি জমা দাখিল করেছি। তিনি আরও জানান, গত ২৩ নভেম্বর বোর্ড কর্তৃক যে মানেজিং কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং ভুয়া কমিটি। কে বা কাহারা আমার নাম, পদবী, মোবাইল ব্যবহার করে কমিটি দাখিল করে। আমি এই কমিটি দাখিল করি নাই। এই অবৈধ কমিটি বাতিলকরণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

এমতাবস্থায় এই অবৈধ কমিটি দ্বারা বিল বেতনভাতা উত্তোলন এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করায় অবিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button