অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

গার্মেন্টস মালিক সমিতি কর্তৃক ইনক্রিমেন্ট না দেয়ার আবেদন মালিকদের শোষক ও ঠগ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ- শ্রমিক নেতৃবৃন্দ

জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শামীম ইমাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক নৃপেন্দ্রনাথ বাড়ৈ ও সুশান্ত রায় এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার দাস এক যুক্ত বিবৃতিতে মালিক সমিতি কর্তৃক এ বছর গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করার আবেদনকে মালিকদের শোষক ও ঠগ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। সাথে সাথে নেতৃবৃন্দ করোনার অজুহাতে মালিক সমিতি কর্তৃক দেওয়া এই অন্যায় আবেদন গ্রহণ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইনক্রিমেন্ট বন্ধ না করে, শ্রমিকদের ঝুঁকি ও মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান এবং আইনানুযায়ী দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরি পুনঃনির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন‌।
উল্লেখ্য, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের বার্ষিক শতকরা ৫ ভাগ মজুরি বৃদ্ধি স্থগিত করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এমপির কাছে গত রোববার বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান ওই আবেদন করেন। মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বর্তমান বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করাটাই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই বিভিন্ন খাতে যেখানে বেতন-ভাতা কমিয়ে দিয়েছে, সেখানে পোশাক খাতে ৫% বৃদ্ধি কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।
অথচ এই করোনাকালে যখন পৃথিবীর অন্যান্য দেশে শিল্প মালিকরা অনুদান দিয়ে বা মন্ত্রী, এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের বেতনের একটা অংশ করোনা আক্রান্ত ও শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি নিশ্চিত করেছে বলে জানা যায়। যেমন- জার্মানি তার দেশের শ্রমিক কর্মচারীদের ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ বেতন, ফ্রান্সে ১০০ ভাগ বেতন, যুক্তরাজ্যে ৮০ ভাগ বেতন এবং আমেরিকাতে প্রতিটি নাগরিক ১২’শ ডলার এবং শ্রমিক, কর্মচারীদের সরকার ৬ মাসের বেতনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। তখন ইতোমধ্যে ইতোমধ্যে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় যে, গার্মেন্টস মালিকরা শুধু শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা পাওয়ার পরেও প্রণোদনাপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা থেকে হাজার-হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এখন আবার তারা ৫% ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করার জন্য এই বেআইনী, অনৈতিক ও অমানবিক আবেদন করেছে। কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
গার্মেন্টস মালিকরা সুুযোগ পেলেই পুরো শিল্পের কথা না ভেবে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নানা অজুহাতে সুযোগের অসৎ ব্যবহার করেন- যা অনৈতিক ও অমানবিক।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি হওয়ার সাথে সাথে পণ্যের দাম বাড়ে- জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ে- যে কারণে এই ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্য ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি শ্রম আইনে ও ওয়েজ বোর্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে।
এ বছর প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হওয়ায় আগের বছরের থেকে শতকরা ৬ শতাংশ হারে পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে গতবারের চেয়ে ৬ শতাংশ হারে বেতন কমেছে। আইন অনুযায়ী এই ডিসেম্বর মাসে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দিলেও আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ হারে কম থাকবে। এমত অবস্থায় করোনা ও মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের মজুরি আরও বাড়ানো জরুরী। কিন্তু মালিকপক্ষ প্রতিবারের মত উল্টো পথে হাঁটছেন।মালিকদের এই বেআইনি ও অন্যায় আবেদন কার্যকর হলে বাস্তব কারণেই শ্রম পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে- গার্মেন্টস শিল্প তথা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button