গাবখান ব্রিজের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজে (পঞ্চম চীন মৈত্রি সেতু) অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ব্রিজো টোল প্লাজায় জনসম্মুখে টোল ফি’র নির্ধারিত চার্ট দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও গাবখান সেতুর কোথাও সেটি নেই। এ নিয়ে পরিবহন ও মালবাহী গাড়ি চালকদের সাথে বাকবিতন্ডা এবং তাদের নাজেহাল করার অভিযোগও রয়েছে টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে। সরকারী নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই এ টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন
অমৃত, প্রাণ ও আরএফএল কোম্পানীর গাড়ি চালকরা ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপকরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সকে ২০১৮সালের ১আগস্ট থেকে ২০২১সালের ৩০জুন পর্যন্ত ৭ কোটি ২২ লাখ ৯৫হাজার ৭২০ টাকা ইজারা চুক্তিতে টোল আদায়ের কার্যাদেশ প্রদান করে। করোনাকালীন সময়ে গাড়ী চলাচল না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের ৩০জুন কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হলে ইজারা চুক্তি অনুযায়ী মূল টাকাও উত্তোলন করতে পারেনি তারা। তাই ক্ষতিপূরণের দাবিতে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। আদালতের নির্দেশক্রমে ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে টোল আদায় বহাল
রাখে মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স। মামলা জটিলতার কারণে আদালতের মাধ্যমে ৪টি পে অর্ডারে ১কোটি ২৪ লাখ ৯০হাজার ৬৫৬ টাকা কোষাগারে জমা হয়েছে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, লাল ¯িøপে ট্রেইলার ৩শ টাকা, হেভী ট্রাক (বোঝাই/খালি) ১৮০টাকা, মিডিয়াম ট্রাক (বোঝাই/খালি) ১৫০টাকা, সবুজ ¯িøপে বড় বাস (বোঝাই/খালি) ৮৫টাকা, লাল ¯িøপে মিনি ট্রাক (বোঝাই/খালি) ১১৫টাকা,
কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান (বোঝাই/খালি) ৯০টাকা, সবুজ ¯িøপে মিনি বাস/ কোস্টার (বোঝাই/খালি) ৬০টাকা, হলুদ ¯িøপে মাইক্রোবাস (বোঝাই/খালি) ৬০টাকা, চার চাকা বিশিষ্ট যানবাহন (বোঝাই/খালি) ৬০টাকা, সিডান কার
(বোঝাই/খালি) ৪০টাকা, ৩/৪চাকার মোটরাইজড যান (বোঝাই/খালি) ১৫টাকা এবং সাদা ¯িøপে মটর সাইকেল ১০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণ গ্রæপের ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপক মো. নূরে আলম জানান, আমাদের কোন ট্রেইলার যান নেই। হেভী ট্রাক, মিডিয়াম ট্রাক ও মিনি ট্রাক রয়েছে। আমাদের এ তিন ধরনের গাড়ির যেটিই ব্রিজে পারাপারের জন্য যায় তখনই লাল ¯িøপে ৩শ টাকা করে রাখা হয়। ¯িøপে আমাদের গাড়ির নম্বরটিও উল্লেখ করা হয় না। জনস্মুখে কোথাও কোন চার্টও টানানো নেই। গাড়ি চালকরা এনিয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে বাজে ব্যবহার করা হয়। নাজেহাল করে মারতেও উদ্যত হয় অনেক সময়।
একই অভিযোগ জানালেন আরএফএল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন ও অমৃত ফুড কোম্পানীর ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপক অনুপ মুখার্জি। তারা জানান, সম্প্রতি চালুকৃত বেকুটিয়া ব্রিজের টোলঘরে কোন গাড়ির কি পরিমাণ বা কত
টাকা সরকার নির্ধারিত টোল তা প্রকাশ্যে টানানো রয়েছে। কিন্তু গাবখান ব্রিজের টোল ঘরে যা ইচ্ছে তাই টোল রাখে। তারা এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠ সমাধান দাবী করেন।
মেসার্স ইসলাম এন্ড ব্রাদার্সের পক্ষে টোল আদায়কারী শাহ আলম খান ফারসু মুঠোফোনে জানান, টোল আদায়ের ¯িøপে গাড়ি চালকরাই নম্বর লেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করে না, টাকা দিয়েই ¯িøপ নিয়ে চলে যান। সড়ক বিভাগ নির্ধারিত মূল্যই টোলে রাখা হয়। প্রাণ গ্রæপের এক লোক এসে আমাদের কাছে ১৮০টাকা টোলের গাড়িতে ১৫০টাকা দেয়ার দাবী করলে আমরা তার দাবী মেনে সেভাবেই টাকা রাখছি। আগে চার্ট দৃশ্যমান ছিলো কিন্তু মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সড়ক বিভাগ
ও ইসলাম ব্রাদার্সের টোল আদায়ের পালা বদলের কারণে এখন চার্ট নেই।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জানান, প্রাণ গ্রæপের ট্রান্সপোর্টের এক কর্মকর্তা আমাকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করছিলো। আমি তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা হবে।




