খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শনিবার বিকেলে দলের এক যৌথ সভায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
একই দাবিতে বিভাগীয় শহরে জনসভা, সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়গুলোও সভায় উঠে আসে। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনে কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দের সাথে যৌথ সভা করেন বিএনপির মহাসচিব। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বৈঠকে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব ও চলমান কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দেশনেত্রীর জামিন না হওয়ায় নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেইসাথে নেত্রী মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। পরবর্তী কর্মসূচি আমরা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসমাবেশসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তীতে আমরা আপনাদের জানাবো।
খুলনার জনসভায় খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তথ্য জালিয়াতি মাধ্যমে একটা কাগজের ওপর ভিত্তি করে শুধু রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য তাকে সাজা দিয়েছেন। তারা জানেন যে, কখনো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন তাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব হবে না। সেজন্য এটা দিয়েছেন।
জাতিসংঘকে বিএনপির চিঠি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান দেশের যে পরিস্থিতি, দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ এবং আগামী নির্বাচন সম্পর্কে জাতিসংঘকে অবহিত করা হয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার ওপর হামলার ঘটনার আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা কখনোই এ ধরনের সন্ত্রাসের পক্ষে নই। আমরা মনে করি যে, এটা আরেকটা চক্রান্ত। যারা দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় এটা তাদেরই চক্রান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি এজন্য আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমান সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। দু:সময়ে যারা দলের হয়ে কাজ করবেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বরকতুল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর নাসির, রুহুল আলম চৌধুরী, আমিনুল হক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে উকিল আবদুস সাত্তার, এজে মোহাম্মদ আলী, লুৎফর রহমান খান আজাদ, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, মনিরুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মাহবুবুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদিন ভিপি, আবদুর রশিদ, জিয়াউর রহমান খান, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাহিদা রফিক, গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুল হাই, কবীর মুরাদ, ফজলুল রহমান, আতাউর রহমান ঢালী, সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল কাইয়ুম, বিজন কান্তি সরকার, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, মান্নান তালুকদার, অধ্যাপক আব্দুল বায়েস ভুঁইয়া, ময়নুল ইসলাম শান্ত, মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, এসএম ফজলুল হক, আবদুল কুদ্দুস, ড. মামুন আহমেদ, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মুক্তাদির হোসেন, শামসুল আলম, আবদুল হাই শিকদার, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী ও সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের কোনো পাতানো ফাঁদে বা উসকানিতে পা না দিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক তথা নিয়মের মধ্যে থেকে সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালনের কথা বলেছি। দলের হাইকমান্ডই কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে এই দু:সময়ে দলের একটি মনিটরিং সেল গঠন করে নেতৃবৃন্দের কার্যক্রম দেখভালের কথা বলেছি। যাতে প্রমাণিত হয় কারা দায়িত্ব পালন করছেন আর কারা করছেন না। যারা এলাকায় যাবেননা তাদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করতে আহ্বান জানান তিনি।




