
‘খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমরা খুব অসহায় বোধ করছি’ বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎকরা। তারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস হয়েছে, এ কারণে তার ব্লিডিং হচ্ছে। একটানা তিনি দিন তার ব্লিডিং থামেনি। তাকে দ্রুত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা।
‘ওনার (খালেদা জিয়ার) সিরিয়াস বিষয়টা আমরা জানিয়েছি। যত দ্রুত পারেন দেশের বাইরে নেয়ার ব্যবস্থা করেন’ বলেছেন তারা।
রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।
চিকিৎসকরা বলেন, টানা তিনদিন যাবত খালেদা জিয়ার ব্লিডিং হয়েছে। এখন একটা পর্যায়ে ব্লিডিংটা বন্ধ আছে। ওনার যে পরিস্থিতি রয়েছে ব্লিডিং আবার হবে, হতে পারে এটাই স্বাভাবিক। আমরা অসহায় বোধ করছি। কারণ ওনার থার্ড টাইম ব্লিডিং হয়েছে। ডায়াবেটিস, লিভারসহ সমস্যাগুলি নিয়ে এরপর ব্লিডিং হলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে, বিষয়টা আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ পরিবারকে জানিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা হাসপাতালের অথরিটিকে জানিয়েছি, উনার রিলেটিভকে জানিয়েছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনারা ‘টিপস’ অ্যারেঞ্জ করেন। এখনো সময় আছে ওনি কিছুটা স্ট্যাবল আছেন। কিন্তু একটা সময় আসতে পারে যখন হয়তো ওনাকে কোথাও শিফট করাটাও ডিফিকাল্ট হয়ে যেতে পারে অথবা অসম্ভবও হতে পারে। ওনার সুস্থতার জন্য এমন কিছু টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে, এটা বাংলাদেশে নেই। আমরা একটা কথা বলতে পারি ওনার রিস্ক খুব হাই। ব্লিডিং হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মোট কথা আমরা অসহায় ফিল করছি।
‘টিপস’ এর ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. সিদ্দিকী বলেন, টিপস যে টেকনোলজিটা এটা ইউকের কিংস কলেজ হাসপাতালে আছে। চিকিৎসাগুলো জার্মানি এবং ইউএসএতে হয়। সেসব দেশেও এই ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা বেশি অ্যাভেলেইবল নেই। কোনো রোগীর যদি এমন কোনো সমস্যা হয় তাহলে তাকে হেলিকপ্টারে করে ওই হাসপাতালে পাঠায়। একটা পেশেন্টের জন্য একটা সেটআপ বা কোন হাসপাতালকে তো ঢাকায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আর চার মাস আগে যদি উনি বিদেশে যেতে পারতেন, তাহলে হয়তো এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ব্লিডিং-এর সম্মুখীন হতেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে আমরা ২৪ ঘন্টা ওনাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সেই সময় তো আমাদের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব না। এমনকি আজকে যে সংবাদ সম্মেলন করছি সেটার জন্য গতকাল ম্যাডামের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি।
ড. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আমরা যারা চিকিৎসা করি, আমাদের মধ্যে একটা লিমিটেশন আছে। সেটা হচ্ছে যে, আমাদের কাছে কোনো অসুস্থ রোগী আসলে তখন তাকে ম্যানেজ করি পাশাপাশি আমরা তার লোকাল অভিভাবককে তার রোগের বিষয় জানাই। আমরা ইতিমধ্যে ম্যাডামের ক্লোজ রিলেটিভদের তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের বিষয়ে জানিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রফেসর এ কে এম মহসিন, প্রফেসর শামসুল আরেফিন, প্রফেসর মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন প্রমুখ।




