খেলা

ক্ষেপে গিয়ে কেকেআর খেলোয়াড়দের ধমকালেন শাহরুখ!

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্রিকেটারেরা তাদের মালিকের বিখ্যাত ফিল্মের জনপ্রিয় সংলাপ নকল করার চেষ্টা করেছিলেন। নাইট অন্দরমহলে দীনেশ কার্তিকদের বিশেষ সেই উদ্যোগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল বুধবারেই। এ বার স্বয়ং মালিক তা দেখে জবাব দিলেন।
কোনো সন্দেহ নেই, তার ক্রিকেটারদের অভিনয় ক্ষমতা দেখে একেবারেই তুষ্ট হননি শাহরুখ খান। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি যেমন ক্রিকেটটা তোমাদের হাতে ছেড়ে দিই, তেমন অভিনয়টাও তোমরা আমার ওপর ছেড়ে দাও’। শেষে হাসি-মজার ভঙ্গি করে যদিও ব্যাপারটাকে হাল্কা করার চেষ্টা করেছেন শাহরুখ।
তবে ভিডিওটি দেখে যে কেউ বলে উঠবেন, বলিউডের বাদশার দলে খেললেই অভিনয় শেখা যায় না। একমাত্র পীযূষ চাওলা পাশ করার মতো নম্বর পেলেও পেতে পারেন। বাকিদের অবস্থা শোচনীয়। এমনকী, দুই বিদেশি ক্রিস লিন এবং সুনীল নারাইন— নাইটদের ওপেনিং জুটিকে দিয়েও শাহরুখের সংলাপ বলানোর চেষ্টা হয়। নারাইনকে বলতে হতো ‘নেভার আন্ডারএস্টিমেট দ্য পাওয়ার অব আ কমন ম্যান।’ চেন্নাই এক্সপ্রেসের সেই বিখ্যাত সংলাপ। মাঠের মধ্যে ব্যাটে-বলে নারাইন যতই কেকেআরের ম্যাচ জেতানো এক নম্বর অলরাউন্ডার হন, মালিকের সংলাপ বলাতে তিনি সকলের শেষে। ইংরেজিতে বলতে গিয়েও বার বার হোঁচট খান। তার ওপেনিং সঙ্গী লিনের অবস্থা আরও খারাপ হয়।
কেকেআর গ্রুপে তাদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে শনিবার। প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এক নম্বর দল। ইতিমধ্যেই কেন উইলিয়ামসনের দল প্লে-অফে পৌঁছে গিয়েছে। নাইটরা নিশ্চয়ই চাইবেন, শাহরুখের সংলাপ বলতে না পারুন, দুই ওপেনার যেন ছন্দে থাকেন। কারণ, এ বারের আইপিএলে সেরা বোলিং আক্রমণ হায়দরাবাদেরই। ভুবনেশ্বর কুমার, সিদ্ধার্থ কল, সন্দীপ শর্মা— তিন ভারতীয় নিয়ে গড়া তাদের পেস আক্রমণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। সঙ্গে স্পিন বিভাগও দারুণ শক্তিশালী। আফগানিস্তানের লেগস্পিনার রশিদ খানকে ধরতেই পারছেন না অনেক ব্যাটসম্যান। বৃহস্পতিবারও তার গুগলিতে ঠকে গিয়ে আউট হলেন বিরাট কোহালি। কেকেআরের বিদেশি ব্যাটসম্যানরা বিশেষ করে রশিদের স্পিনের ধাঁধায় আটকে পড়তে পারেন। প্রাক্তন নাইট শাকিব আল হাসানও রয়েছেন। ইডেনে প্রথম পর্বের ম্যাচে শাকিবের অলরাউন্ড দক্ষতার কাঁটায় বিদ্ধ হয়েছিল কেকেআর।
এই ম্যাচটাকেই বলা হয়েছিল নাইট বনাম প্রাক্তন নাইট। হায়দরাবাদ দলে গত বার পর্যন্ত কেকেআরে খেলে যাওয়া তিন ক্রিকেটার রয়েছেন। শাকিব, মণীশ পাণ্ডে এবং ইউসুফ পাঠান। পুরনো দল নিলামে ছেড়ে দেওয়ায় কি তাঁরা খুব সন্তুষ্ট হতে পেরেছিলেন? মনে হয় না। সেই ক্ষোভ প্রথম পর্বের ম্যাচে ভাল মতোই মিটিয়েছিলেন ত্রয়ী। এ বার হায়দরাবাদে নিজেদের ঘরের মাঠে কী করেন, সেটাই দেখার।
‘কোই ধন্ধা ছোটা ইয়া বড়া নহী হোতা হ্যায়’। শাহরুখের সংলাপকে নকল করে ভিডিওটিতে কেকেআর অধিনায়ক কার্তিককে বলতে শোনা যায়, ‘কোই ম্যাচ ছোটা ইয়া বড়া নহী হোতা হ্যায়! অউর ক্রিকেট সে বড়া কোই ধরম নহী হোতা!’ কিন্তু কার্তিকও জানেন, শনিবারের ম্যাচের চেয়ে বড় কিছু এই মুহূর্তে তার জীবনে আসবে না। একটা জল্পনা রয়েছে যে, নিজেরা প্লে-অফে চলে যাওয়ায় শেষ ম্যাচে হায়দরাবাদ তাদের প্রধান বোলারদের বিশ্রাম দেবে কি না। বৃহস্পতিবারেই কোহালিদের আরসিবি-র বিরুদ্ধে যেমন খেলেননি ভুবনেশ্বর কুমার এবং ইউসুফ পাঠান। সেক্ষেত্রে কেকেআরের কাজ কিছুটা সহজ হয়ে যেতে পারে।
পয়েন্ট টেবলের যা অবস্থা, শেষ ম্যাচে জিতলেই প্লে-অফে চলে যাবেন নাইটরা। তখন মালিকও ভালবেসে বলতে পারেন, ‘আচ্ছা, একটু-আধটু অভিনয় চলতে পারে!’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button