sliderরাজনীতিশিরোনাম

ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চক্রান্ত রোধ করতেই জরুরী অবস্থা জারিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ চায় এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: আওয়ামী আমলের বিচারপতি নিয়োগ এড়াতে আমরা সবচেয়ে জৈষ্ঠ্য বিচারপতি নিয়োগের বিরোধিতা করেছি। আপাতত জৈষ্ঠ্যেতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দিয়ে ২/৩ জন জৈষ্ঠ্য বিচারপতির সমন্বয়ে প্যানেলের মাধ্যমে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত এ পদ্ধতি থাকতে পারে। আওয়ামী বিচারপতির লেয়ার শেষ হওয়া সাপেক্ষে সিনিয়রের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ পদ্ধতি হতে হবে, তবে সেই সাথে বিচারপতি নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার দাবি আমরা জানিয়েছি। জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ফ্যাসিবাদী আমলের বিচারপতির মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১২তম দিনে সাংবাদিকদের সাথে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কথা বলেন আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক। এসময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ ভূইয়া।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো জানান,জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার রোধে নতুন বিধান তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে মন্ত্রীপরিষদের অনুমোদনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমতে এসেছে, তবে এবি পার্টি জরুরী অবস্থা জারির ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে মন্ত্রীপরিষদকে দেওয়ার বিষয়টি যে লাউ সেই কদুই হিসেবে দেখছে। কারন বাংলাদেশের বাস্তবতায় কেবিনেট কখনো প্রধানমন্ত্রীর বাইরে যাবে না। এখানে আমরা বিরোধী দলীয় নেতা /উপনেতাকে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছি, এবং ফাইনালি এটিতে সকলে আমরা ঐক্যমত্যে আসতে পেরেছি।
তাই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চক্রান্ত রোধ করতেই জরুরী অবস্থা জারিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ জরুরি ছিলো।
তবে,সকলে এই মর্মে একমতে এসেছেন যে , জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা। মন্ত্রীসভার বৈঠকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বা নেত্রী বা তাঁর অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা উপস্থিত থাকবেন।

দলের অপর নেতা ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক জানান,রাজনৈতিক দলগুলো অধিকাংশ আপিল বিভাগ থেকে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দান করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন তবে, কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির প্রেক্ষিতে কোন রাজনৈতিকদল বা জোট নির্বাচনে ইশতেহার পূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেন্ট লাভ করে তাহলে তারা আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দুজন বিচারপতি থেকে একজনকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করবেন এমন বিষয়ে ঐক্যমতে আসেন। পরবর্তীতে এমন বিধান সংযোজন করতে পারবে।
তবে অসাধচরণ বা অসামর্থ অভিযোগের কারণে ৯২ অনুচ্ছেদের অধীন কোন বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকিলে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা যাবেনা মর্মে কমিশন প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমরা এটির বিরোধিতা করেছি, কারন একজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলেই আমরা তাকে অযোগ্য মনে করতে পারি না। এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button