slider

কোচিং না করেও ঢাবিতে চান্স পেলো একজন হারিজ উদ্দিন শিপু

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : “শিক্ষা কোন সুযোগ নয় অধিকার,গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক একমুখী শিক্ষা চাই“ শিক্ষা কাজ ও বহুত্ববাদি সাংস্কৃতিক সমাজ বিনির্মানের সংগ্রাম চলবেই। বৈশি^ক পূজিবাদী অর্থব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষাও আজ পন্যে পরিনত হয়েছে। শিক্ষায় গ্রাম- শহরের বৈষম্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামের পেটিবুর্জোয়া চরিত্রের শিক্ষক ও অবিভাবকগন পরিক্ষায় ভালো ফল তথা সন্তানের কাছ থেকে অধিক ফলাফলে লোভে শহরে এসে ভিড় করছে। ফলে কোচিং নির্ভর বানিজ্যিক শিক্ষা শহর-উপশহরে ব্যঙের ছাতার মতো হুরহুরিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুযোগ ও সামর্থ্যহীন পরিবার ও শিক্ষার্থীগন বাধ্য হয়েই নিজ পরিমন্ডলের মধ্যেই শিক্ষা কাজের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রান্তিক পর্যায় থেকে যুগে যুগে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষারর্থীরা সমাজকে আলোকিত করলেও বিশ^ায়ন যুগে বানিজ্যিক শিক্ষাব্যবস্থা তার বীপরিত হয়েছে। বেশিরভাগ মেধবী শিক্ষার্থী ও অবিভাবকগন প্রতিযোগীতামূলক পয়েন্ট/ফলাফলকেই জীবনের সমস্ত অর্জন মনে করেন। তাদের কাছে সামাজিকতা,মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোন গুরুত্বই নেই। আমরা বাঙালী জাতি বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রগতিশীল চর্চার জটিল একটি বন্ধা সময় অতিক্রম করছি। তারপরও এখনো প্রদিপের মতো প্রান্তিক পর্যায়ে পারিবারিক প্রগতিশীল, সাংস্কৃতিক শিক্ষা চর্চা ও সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠনে উদীয়মান তরুনরা নিরলসভাবে কাজ করছে।
কোন প্রকার কোচিং না করে বরং ঘরে বসে করোনাকালীন সময়ে মাঝেমধ্যে অনলাইন ক্লাসের সুযোগ নিয়ে দিনরাত একাডেমিক পাঠ্য বই ও সাধারন জ্ঞানের বই পড়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা কলেজে বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে সে একই বিশ^বিদ্যালয়ের পালি ও সংস্কৃতি বিভাগের মেধা তালিকায় আছে এবং ঢাকা যুব থিয়েটার বিভাগেও উত্তির্ণ হয়েছে মানিকগঞ্জ সিংগাইর অঞ্চলের বিনোদপুর নয়াপাড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী হারিজ উদ্দিন শিপু।

একজন হারিজ উদ্দিন শিপু ১০ এপ্রিল ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলার বিনোদপুর নয়াপাড়া গ্রামের একটি প্রান্তিক কৃষিভিত্তিক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ঠ নাট্যকার ও পরিচালক ডা: শাহাদত হোসেন,মাতা হালিমা আক্তার, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে শিপু সবার ছোট। সে বিনোদপুর সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘোনাপাড়া-গোবিন্দল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্তে¡র সহিত (৪.৫০) পেয়ে এসএসসি এবং সিংগাইর সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে (৪.৮৩) পেয়ে এইচএসসি পাশ করে। বাবার প্রগতিশীল আদর্শে দীক্ষিত পেয়ে শিপু ছোটবেলা থেকেই ছড়া,কবিতা,রচনা ও নাটক করে স্কুল কলেজ থেকে পুরুস্কার ও অত্রএলাকায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। তার পরিবারের বড় চাচা পন্ডিত সোরহাব হোসেন বুয়েটের মেধামী ছাত্র ছিলেন। কাকার কাছে বেশ ভালো করেই বিজ্ঞানের সহজ পাঠ রপ্ত করেছে।
হারিজ উদ্দিন শিপু একজন সৃজনশীল ও বহুমুখী প্রতিভাবান মেধবাী ছাত্র। তাইতো সে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজের গ্রামের উদ্যমী তরুণদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন সেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন বিনোদপুর নয়াপড়া নবীন যুব সংঘ। সংগঠনটি ২০১৭ সাল থেকে এলাকাবাসীর সহযোগীতা এবং বারসিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকাতায় জাতীয় দিবস উদযাপন, পাঠ্যাভাস প্রতিযোগীতা, গ্রামীণ খেলাধুলা,বৈশাখ উদযাপনে গান,নাটক,বৃক্ষ রোপন ও বাল্য বিবাহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধে নানামূখী সেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম করে আসছে। সে সমাজে পিছিয়ে পরা মানুষের জীবন মান উন্নয়নে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দেশপ্রেমে বুকে ধারন করে ঐ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আমরা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আমি একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে জীবনের মুল্যবান সময়ের একটা অংশ হারিজ উদ্দিন শিপুদের মতোন যুবকদের সাথে থাকতে পেরে গর্ববোধ করছি। প্রতিটি গ্রামে আমরা এমন অসংখ্য শিপুদের দেখতে চাই। যারা প্রগতিশীল বিজ্ঞানমন্সক শিক্ষার আলো নিয়ে নারীবান্ধব বহুত্ববাদী সামাজিক ন্যায্যতার সমাজ বিনির্মান করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button