উপমহাদেশশিরোনাম

কৃষি বিলের প্রতিবাদে কৃষক বিক্ষোভে অচল ভারত

কৃষি বিলের প্রতিবাদে ভারত অচলের ডাক দিয়েছে দেশটির কৃষক সংগঠনগুলো। শুক্রবার দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ।
প্রতিবাদরত কৃষকেরা শুক্রবার সকালে দিল্লি-অমৃতসর হাইওয়ে অবরোধ করেন। অযোধ্যা-লখনউ হাইওয়েতে প্রবল যানজটের খবর মিলেছে।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানায়ও চলছে কৃষকদের ধর্মঘট। সেখানে কৃষকদের সমর্থনে রয়েছে শাসক কংগ্রেস, বিরোধী আম আদমি পার্টি এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ’র এসএডি দল।
পাঞ্জাবে ইতিমধ্যেই তিনদিনের রেল অচলের কর্মসূচি শুরু করেছেন কৃষকেরা। দাবি না মানলে ১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল ধর্মঘটের কর্মসূচি নেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন তারা।
কৃষি বিলের প্রতিবাদে বিহারের দ্বারভাঙায় শুক্রবার সকালে মোষের পিঠে চেপে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় রাষ্ট্রীয় জনতা দল। তারা ছাড়াও রাজ্যটিতে কংগ্রেস ও তৃণমূল এই বিলের বিরোধিতা করেছে।
কর্ণাটক-তামিলনাড়ু হাইওয়েও অবরোধ করা হয়। অবরোধ করা হয়েছে অযোধ্যা-লখনউ হাইওয়েও।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান ধর্মঘটে বসেছে তৃণমূলের কিষান খেতমজদুর সংগঠন। গোটা রাজ্যে অন্য কৃষক সংগঠনগুলোও জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।
আগের দিন রাজ্যটির গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন হাটবাজারে তৃণমূলের কৃষকেরা কৃষি বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
এদিকে কংগ্রেসের উসকানিতে কৃষকেরা বিক্ষোভে নেমেছে বলে দাবি ক্ষমতাসীন বিজেপির। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর বলেন, ‘এই আইনের ফলে ছোট কৃষকেরা সরাসরি তাঁদের ফসল নিজেদের মর্জিমাফিক দামে বিক্রি করতে পারবেন। যে ব্যবসায়ী বেশি দাম দেবেন, তাকেই বিক্রি করা যাবে। প্রয়োজনে নিজের বাড়িতে বসেও দেশের অন্যত্র ফসল বিক্রি করা যাবে।’
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের ফলে কৃষকদের চেয়ে বেশি লাভ হবে বড় ব্যবসায়ী কোম্পানিগুলো। পথে বসবেন ছোট কৃষকেরা। উঠে যাবে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যও।
শুক্রবার হিন্দুত্ববাদী তাত্ত্বিক নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১০৪ বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এত দিন কৃষকদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিলেন, এখন কৃষকদের কাঁধে বন্দুক রেখে চালাচ্ছেন তারা। সরকারি নীতি নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন।’
সুত্র : রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button