কাশ্মির ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর বদল
কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথায় সায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কাশ্মির বিরোধ ভারত-পাকিস্তান নিজেরাই মেটাতে পারে। আগে কাশ্মির নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও এবার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে প্রয়োজন পড়লে তাদেরকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও ফের জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মলেনের ফাঁকে সোমবার এক বৈঠকে ট্রাম্প ও মোদি কাশ্মির প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ করেন। তখনই কাশ্মির ইস্যুটি দ্বিপক্ষীয় এবং এতে মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই বলে ট্রাম্পকে বুঝিয়ে দেন মোদি। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে মোদি জানান ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতা বরদাশত করা হবে না। দুই দেশের সমস্যা নিজেরাই আলোচনা করে সমাধান করার ব্যাপারে বিশ্বাসী বলেও জানান তিনি।
এ দিকে ট্রাম্পও সাংবাদিকদের বলেন, তারা কাশ্মির নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে বলেছেন, তিনি কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাই এ বিষয়ে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের আর কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। ভারত-পাকিস্তান একসাথে আলোচনা করে নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
গত ৫ আগস্ট ভারত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মির উপত্যকা। ফোনে ট্রাম্পকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই ইস্যুতে ট্রাম্পকে ফোন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নালিশ জানান। দুই প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপের পর টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি কাশ্মিরের বর্তমান অবস্থাকে ‘একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। পরদিন হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অঞ্চলটির বিদ্যমান অবস্থাকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কাশ্মির খুবই জটিল একটি জায়গা। সেখানে হিন্দুও রয়েছে, মুসলিমও রয়েছে। আমি বলতে পারি না যে তারা একসাথে ভালো রয়েছে। সেখানে মধ্যস্থতা করতে আমি যতটুকু সম্ভব করব। আপনারা দু’টি দেশ, দীর্ঘ সময় ধরে একসাথে এবং ঘনিষ্ঠভাবে থাকতে পারছেন না, এটি খুবই বিস্ফোরক পরিস্থিতি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা বিষয়টিকে সাহায্য করছি। যেমনটা আপনারা জানেন, দুই দেশের মধ্যে প্রচণ্ড রকম সমস্যা রয়েছে। মধ্যস্থতা করতে আমি যতটা সম্ভব করব অথবা কিছু তো করব।’ রয়টার্স ও জি নিউজ


