প্রবাসশিরোনাম

কানাডায় ‘দ্যা টেষ্ট অব বাংলাদেশ’

সওগাত আলী সাগর
অশোয়া থেকে ড্রাইভ করে ডেনফোর্থ আসছিলেন আমাদের লেখক বন্ধু সালাহউদ্দিন শৈবাল। এফএম রেডিওর হোষ্টের কণ্ঠটা যেনো তারা শরীরকে কাঁপিয়ে দিলো। ‘দ্যা টেষ্ট অব বাংলাদেশ’- এই শব্দগুলোর বাইরে আর কোনো কিছুই যেনো তার কানে ঢুকলো না। তিনি রেডিওর ভলিউম বাড়িয়ে দিলেন। এফএম রেডিও তে বারবার ‘বাংলাদেশ’ নামটা উচ্চারিত হচ্ছে- সেটাই প্রবলভাবে আলোড়িত করে রাখলো শৈবালকে।
কানাডায় বসবারত বাঙালিরা্ও যেনো নতুন করে আলোড়িত হলো, আবেগে কাঁপলো, লম্বা টানে বুকের ভেতর বাতাস ভরে নিয়ে ফিস ফিস করে যেনো বলতে শুরু করলো- আহা, আমার বাংলাদেশ। সোমবার এমনি এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিলো টরন্টোর ‘বাংলা টাউন’ নামে খ্যাত ডেনফোর্থ এলাকায় ‘দ্যা টেষ্ট অব বাংলাদেশ’কে ঘিরে।
প্রথমবারের মতো শহরের প্রধান একটি সড়ক বন্ধ করে সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো বাংলাদেশিরা। ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে শুরু করে শিবলি এভিনিউ পর্যন্ত সড়কের এক পাশে সারি সারি ছিলো খাবার দাবারসহ নানা ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের স্টল। ভিক্টোরিয়া পার্ক আর ডেনফোর্থ এভেনিউর সংযোগস্থলে মঞ্চ বানিয়ে সেখানে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের গান। অতিথি শিল্পী জেমস, তপন চৌধুরী ছাড়াও টরন্টোর বাংলাদেশি শিল্পীরা মঞ্চ মাতিয়েছেন। এসবই যেনো আনুষ্ঠানিকতা। একুশের বইমেলায় শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে যেমন মানুষের ঢল নামে, পহেলা বৈশাখে যেমন রমনায় মানুষের স্রোত বইতে থাকে, তেমনি ‘দ্যা টেষ্ট অব বাংলাদেশকে ঘিরে ডেনফোর্থে যেনো বাংলাদেশিদের স্রোতস্বীনি নদীর জন্ম হয়ে যায়।
শহরের মানুষগুলো তো এসেছেই, দূরদূরান্তের শহর থেকে বাংলাদেশিরা ছুটে এসেছেন এই অনুষ্ঠানে, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা, যারা বাংলাদেশিদের কোনো অনুষ্ঠানে আসতে চায়না বলে আমরা অনুযোগ করি, তারা এসেছে দল বেধে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি পরে। বড়রা তো বটেই ছোটো ছোটো বাচ্চারা পর্যন্ত মানুষের ভীড়ে হেটে বেড়িয়েছে, ছুটে বেড়িয়েছে, যেনো এই মানুষের ভীড়ে হেটে চলাতেই অপার আনন্দ।
কোনো একটি আয়োজন নিয়ে কোনো অনুযোগ নেই, আছে কেবল উচ্ছাস আর আবেগ, বাঙালিদের কোনো অনুষ্ঠানে এমন প্রত্যাশা কারা কঠিন। কিন্তু দ্যা টেষ্ট অব বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো অনুযোগ শুনতেই যেনো কেউ তৈরি ছিলেন না, কেউ হয় তো বললেন, সাউন্ড সিস্টেম আরেকটু ভালো হতে পারতো, গার্বেজ ব্যবস্থাপনা আরো ভালো হতে পারতো- এমনি আশপাশ থেকে সমস্বরে অন্যরাই বলে ওঠে- প্রথমবারতো, পরের বার সব ঠিক হয়ে যাবে। আয়োজক নন, দর্শক – শ্রোতারাই এভাবে সব কিছু মেনে নিয়ে সমালোচনার সুযোগটাকেই অঙ্কুরে উড়িয়ে দিয়েছে।
কানাডায় বাঙালিদের সর্ববৃহৎ আয়োজন ‘দ্যা টেষ্ট অব বাংলাদেশ’কে ঘিরে টরন্টোর ডেনফোর্থেই যেনো মূর্ত হয়ে উঠলো আবাহমান সোনার বাংলাদেশ।
লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button