কলকাতা থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনা আগমন এবং এক ঘন্টা ২০ মিনিট অবস্থানের পর আবার যাত্রী নিয়ে কলকাতা অভিমুখে ফিরতি যাত্রা। এভাবেই বৃহস্পতিবার থেকে ভারতীয় পূর্ব রেলের বন্ধন এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটির কলকাতা-খুলনা রুটের বাণিজ্যিক যাতায়াত (কমার্শিায়াল অপারেশন) শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে কলকাতা থেকে যাত্রা করে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে খুলনা স্টেশনে এসে পৌঁছায় বন্ধন এক্সপ্রেস। আর খুলনা থেকে ছাড়ে বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বৃহস্পতিবার খুলনা রেল স্টেশনে উপস্থিত হয়ে বন্ধন এক্সপ্রেসের ফিরতি বাণিজ্যিক যাত্রার উদ্বোধন করেন। তিনি ঊক্ত ট্রেনে করে বেনাপোল পর্যন্ত গিয়ে ঢাকা ফিরে যাবেন বলে জানা যায়।
ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শ্রিংলা বলেন, এ ট্রেন চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হবে এবং বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। রোগী ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে সুবিধা হবে। তিনি অসুস্থ এবং বৃদ্ধদের ভিসা পদ্ধতি সহজ করা হবে বলে জানান। এছাড়া খুব শিগগিরই খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন খোলার কথাও বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বন্ধন এক্সপ্রেসে কলকাতা থেকে ৬৬ জন যাত্রী খুলনা আসেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশী ছিলেন ৩৪ জন এবং ভারতীয় ছিলেন ১৬ জন। বাকিরা ট্রেনের স্টাফ। তবে খুলনা থেকে কলকাতা যান ২৫৩ জন। এর সিংহভাগই বাংলাদেশী।
খুলনার সাংবাদিক এইচএম আলাউদ্দিন চিকিৎসার জন্যে এ ট্রেনে করে কলকাতা যান। তিন বলেন, চিকিৎসার উদ্দেশে যাওয়া। সেইসাখে ইতিহাসেরও সাক্ষী হওয়া গেল। এ রুটে ট্রেন চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ সহজে কলকাতাসহ ভারতের অন্যত্র যাতায়াত করতে পারবে।
স্টেশনে আরও কথা হয় অমরজিত সিং-এর সাথে। তিনি ভারতীয় রেলের কমকর্তা। আড়াই বছরের চুক্তিতে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় তিনি খুশী ।
প্যাসেঞ্জার কম হয়েছে বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, পরবর্তী ট্রিপ থেকে বেড়ে যাবে।
খুলনার স্টেশন মাস্টার মাণিক চন্দ্র সরকার জানান, খুলনা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১৭৫ কিলোমিটার। বন্ধন এক্সপ্রেসে মোট ১০টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ইঞ্জিন ও পাওয়ার কার ২টি। বাকি ৮টি কোচ যাত্রীদের জন্যে নির্ধারিত। ট্রেনে ৪৫৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এসি (কেবিন) ১৪৪ এবং ৩১২টি চেয়ার। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে কেবিনপ্রতি ২ হাজার টাকা। আর চেয়ারের ভাড়া ১৫শ’ টাকা।
খুলনা থেকে কলকাতা যেতে কাস্টমস-ইমিগ্রেশনসহ প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লাগবে। আপাতত প্রতি বৃহস্পতিবার ট্রেনটি যাতায়াত করবে।




