Uncategorized

করোনাকালে নবীন-প্রবীনের আরো অটুট আন্তসম্পর্কের ডাক

সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ : আজ আর্ন্তজাতিক প্রবীন নির্যাতন প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রবীণদের উপর চলমান নির্যাতন বন্ধে প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আউটপাড়াতে ’প্রবীন অধিকার বাস্তবায়নে বেতিলা মিতরা ইউনিয়ন সাংস্কৃতিক দলের’ আয়োজনে সোমবার দূরবন্ধন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। দূরবন্ধন কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো : ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়, আউটপাড়া গ্রামের অবঃ চাকুরিজীবি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যবসায়ী মাজেদ মিয়া, ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান, কৃষক হযরত আলী, বিশিষ্ঠ সংগীত শিল্পী ও সংগঠক তসলিম উদ্দিন, বারসিক কর্মকর্তা গাজী শাহদাৎ হোসেন বাদল প্রমূখ।
করোনাকালিন দূর্যোগে শারিরিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রামীন মানুষের অংশগ্রহনে প্রবীন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ভালবাসা,তাদের অধিকার ও সন্মানের দাবীতে এই দূরবন্ধনে সরকারি সেবা সমূহের আওতা বাড়ানোর দাবী, মা-বাবর প্রতি সন্মান শ্রদ্ধা , তাদেরকে নির্যাতনমুক্ত রাখা ও পারস্পরিক সহনশীল পরিবেশ গড়ে উঠুক এবং সম্প্রীতির ধারা বজায় থাকুক এই কথা সমূহ আলোচকদের নিকট থেকে উঠে আসে।
উল্লেখ্য যে -করোনার কারনে প্রতিদিন আমরা আমাদের চারপাশের জগতকে অপরিচিত মনে হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, শোনতে পাচ্ছি সন্তান তার বৃদ্ধ মাকে করোনা আক্রান্তর কারনে বনে ফেলে যাচ্ছে। আবার মা-বাবাও তার সন্তানকে ফেলে যাচ্ছে বাঁশ ঝাড়ের ভিতর। সন্তানগন মায়ের
কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নিয়ে রাস্তায় মাকে ফেলে যাচ্ছে, বৃদ্ধ মার ভরপোষন বা রাখার জায়গা নেই বা কোন সন্তান নিতে চায় না, নানান সমস্যা সৃষ্টি করে এই অজুহাতে বিভিন্ন বাসস্টান্ড,রেলস্টেশন,রাস্তার ধারে রাতের আধারে ফেলে যাচ্ছে, কখন শীতের দিনে বা বর্ষার দিনে। অনেক বৃদ্ধ মাকে শারিরিক নির্যাতন করা হচ্ছ্ধেসঢ়; প্রতিনিয়ত। সকল খরব পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় তা নয়। অনেক কথাই লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘটে যায় ও যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।অনেকে এই সকল ঘটনাকে নিয়তি হিসেবে মেনে নেই আবার অসহনীয় হলে তা সামনে আসে বা প্রকাশ হয়।
এই বান্তবতায় এই সময়ে প্রবীন নির্যাতন প্রতিরোধে দিবস খুবই প্রাসঙ্গিক। করোনাতে বলা হচ্ছে সোস্যাল ডিসট্যান্স আর সোস্যাল ডিসট্যান্স আমাদেরকে পরস্পরের প্রতি দ্বায়িত্বহীন করতে পারে। প্রবীন নাগরিকগন দীর্ঘ কর্মজীবনে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য তার সকল উপার্জন,শ্রম দিয়েছে। সেখানে পরিবার ,সমাজ ও রাষ্ট্র তার প্রতি সন্মানের দ্বায়িত্ব পালন না কওে তবে এই প্রবীন নাগরিকের উপায় কি। অনেক সন্তান তার মায়ের বা বাবার সঞ্চিত সম্পদ ভ’লভাবে দখল নিয়ে তাকে বঞ্চিত করে রাস্তায় ফেলে দেয় ,শারিরিক,মানসিক নির্যাতন করে। একজন মা বা বাবার সম্পদ াধিক গুরত্বপূর্ণ হয় তবে ব্যক্তি অবাঞ্চিত হয়। সমাজ ও রাষ্ট্র এই সকল ঘটনা ানেক সময় দেখেও চুপ করে থাক্ধেসঢ়; । বাংলাদেশের প্রবীন নাগরিকদের রক্ষায় ইতিমধ্যে আইনী উদ্দোগ গ্রহন করা হযেছে। বয়স্কভাতা চালু হযেছে,বিধাব ভাতা চালু হয়েছে, মা-বাবা ভরনপোষন আইন করা হযেছে। প্রবীনদের সিনিয়র সিটিজেন ঘোষনা করা হযেছে। এই সকল বিষয় থাকার পরও প্রবীন নাগরিকগন নানা ধরনের বৈষম্য,নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হন।
বয়স্ক নাগরিকগন কথা বলার অনেক সময় কাউকে পায় না,তাদের প্রয়োজনীয় খাবার,ঔষধ,পোশাক, থাকার ঘর বা জায়গা নিয়ে নানান গঞ্জনার শিকার হন। যৌথ পরিরাব ভেঙ্গে গেলে বয়স্ক মা –বাবা কোথায় থাকবেন কিভাবে থাকবেন সেটা একটি সমস্যা হিসেবে সন্তানগনের নিকট চিহিৃত হয় তখন মাসিক আ পাক্ষিক ভিত্তিতে মা-বাবাকে বিভাজন করা হয়। যখন একজন মানুষের কথা বলার মানুষ বা কেহ থাকে না তখনই এই বিবাজন হতে হয় বিভিন্ন বাস্তবতার কারনে।এই বিভাজন তাকে মানসিক ও শারিরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে।প্রবীন নাগরিক আমাদের কাছে বোঝা হিসেবে উপস্থাপন হয়। আমরা প্রত্যেকেই প্রবীন হব একটি নির্দিষ্ট সময় পরে অথ্যাৎ আমাদের বয়স যখন ৬০ বছর হবে।তখন আমাদের নানান ধরনের রোগ ব্যাধি কারনে কর্মক্ষমতা হারাবো। আমাদেরকে পরিবার ও সমাজ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবে। একসময় মানুষের গড় আয়ু কম ছিল তাই প্রবীন মানুষের সংখ্যা কম ছিল কিন্তু বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু সারা বিশ্বেও মতো বাংলাদেশে বেশী।বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বর্তমানে ৭২ বছর(প্রায়)। সেই হিসেবে ২ কোটির মতো প্রবীন নাগরিক আমাদের দেশে। এই বিপুল নাগরিককে রক্ষা করা তাদের অধিকার ও সক্রিয় রাখা আমাদের সকলের দ্বায়িত্ব। প্রবীন নির্যাতন শুধু বাড়িতে ঘটে তা নয় সমাজেও ঘটে দেখা যায় প্রবীন নাগরিকদের জন্য আলাদা বাসের সিট নেই,হাসপাতালে আলাদা কোন বসার ব্যবস্থা নেই, পেনশন বা ভাতা প্রদানের দিন ব্যাংকে তাদের জন্য আলাদা কোন লাইন বা যতœ নেওয়া হয় না। এই সকল বিষয় সমূহের আলোকে আন্তর্জাতিক প্রবীন নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে গ্রামীন আলোচকগন তাদের প্রতি ন্যায সংগত আচরন ও রাষ্ট্রের বয়স্কভাতার পরিমান ও পরিধি বাড়ানোর দাবী করে যাতে আরো বেশী জনগোষ্ঠীকে সরকারে ভাতার আওতায় আনা যায় যার মাধ্যমে প্রবীন নাগরিকগন আর্থিক ভাবে এক ধরনের ক্ষমতায়িত হবে ফলে পরিরারে সমাজে তাদের প্রতি সমন্মান বাড়বে এবং নির্যাতনের মাত্রা হ্রাস পাবে বলে তারা মনে করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button