কপোতাক্ষ নদের উপচে পড়া পানিতে ঝিকরগাছার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সংবাদদাতা, যশোর: গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও কপোতাক্ষ নদের উপচে পড়া পানিতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের, বিনষ্ট হয়েছে আউস-রোপা আমন ধান ও সবজি ক্ষেত। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে পৌর সদরসহ কপোতাক্ষ পাড়ের বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে উপজেলার কপোতাক্ষ তীরবর্তী পৌর সদরের পারবাজার, মোহীনকাঠি, রাজাপুর, পুরন্দরপুর ও, কাটাখাল শান্তিনগর, পঞ্চনগরসহ নিন্মাঞ্চলের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পৌর সদরের পারবাজারের শিববাড়ি মন্দির পাড়া, কাটাখাল শান্তিনগর,পুরন্দরপুর সাদ্দামপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় শতাধিক পরিবার পানিতে নিমজ্জিত।
পারবাজারের শিববাড়ি মন্দির পাড়ার হরিপদ সেনের স্ত্রী পূর্নিমাবালা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তারা পানিবন্দী রয়েছেন। ঘরের বারান্দা নিমজ্জিত, উঠানে কোমর সমান পানি। তার ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া অনিক সেন কোমর পানি মাড়িয়ে ভিজে পড়ে স্কুলে যাচ্ছে। উপজেলার বেলেডাঙ্গা গ্রামের কওসার আলী গোলদার জানিয়ছেন, গতকয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও কপোতাক্ষ নদের উপচে পড়া পানিতে নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণে উপজেলার প্রায় এলাকার আউস ও রোপা আমন ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিনষ্ট হয়েছে মরিচ, পটল, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। আলী হোসেন জানান, টানা বর্ষণে তার দেড় বিঘা জমির মরিচ ও মুলা, এক বিঘা জমির পেঁপে নষ্ট হয়েছে। তার আনুমানিক হিসাব মতে দেড় বিঘা জমির মরিচ বিক্রি হত অন্তত দেড় লক্ষ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার দীপঙ্কর দাশ জানিয়েছেন, টানা বর্ষণে আউস-রোপা আমন ধানক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে ১৬ শ’ হেক্টর ও ৬ শ’ হেক্টর জমির সবজি। যার মধ্যে রয়েছে মরিচ, পটল, পেঁপেসহ নানা জাতের শাকসবজি। তার দাবি ২/১ দিনের ভেতরে পানি সরে গেলে অধিকাংশ ধান ও সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হবে না। তবে যে সব ক্ষেতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘ স্থায়ী হবে সে সব ক্ষেত বিনষ্ট হবে। আগাম প্রস্তুতি থাকার সত্ত্বেও অসংখ্য পুকুর, মাছের ঘের, জলাশয় ভেসে গেছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার আব্দুল বারি জানিয়েছেন, ৪৪ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। যার ক্ষতির পরিমান ২৬ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।




