কক্সবাজারে চরের জায়গা দখলে নিতে পাড়ায় তাণ্ডব : পুড়ে অঙ্গার নারী

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরে জেগে উঠা চরের জায়গা দখল নিতে বৃহস্পতিবার ভোরে সশস্ত্র একদল গ্রামবাসী গিয়ে একটি পাড়ায় তাণ্ডব ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় অন্তত ২৬টি একান্নবর্তী পরিবারের বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে সবকিছু পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নারী।
এছাড়া গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে আহত হয়েছেন বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন ব্যক্তি। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ সময় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অন্তত অর্ধশত রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।
উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীতীরের খিলছাদক গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নারীর নাম মনোয়ারা বেগম (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের মোজাহের আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মারা যাওয়া বৃদ্ধার স্বামীর মোজাহের আহমদ (৭০), শাহ আলমের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন (২৫), আকতার আহমদের ছেলে মো. মুরাদ (২৩) হাজি আবু তাহেরের ছেলে আবু ছালেক (৪২), এজাহার আহমদের ছেলে নবীর হোছাইন (৫০), গুলিবিদ্ধ দুইজন ফজল করিমের ছেলে মো. বাবলু (২২) ও হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আলম (৪৫)।
ক্ষতিগ্রস্ত কৈয়ারবিলের খিলছাদক গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে তাদের গ্রামের বিশাল অংশ মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তবে কয়েক বছর ধরে নদীতে তলিয়ে যাওয়া সেই জায়গা দিনদিন জেগে উঠে। যাদের জায়গা জেগে উঠে তারা সেই জায়গায় বসতি গড়ে তোলে। কিন্তু নদীর ওপার তথা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন বরইতলীর গোবিন্দপুর গ্রামের সশস্ত্র লোকজন এপাড়ে এসে বার বার জেগে উঠা জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে সাহরি খাওয়ার পর পরই শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে একযোগে এ পাড়ের খিলছাদক গ্রামের অন্তত ২৬টি বসতবাড়িতে একযোগে হামলা ও লুটপাট চালায়।
ফাঁকা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। পরে একযোগে সবকটি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সব বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় কোটি টাকার মালামাল লুট ছাড়াও বেশ কয়েক কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি করে তারা।
এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. সাইফুল হাছান, হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম, এসআই অপু বড়–য়া, বরইতলী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার ও মক্কী ইকবাল হোসেন।
চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, কৈয়ারবিলের খিলছাদক অংশে মাতামুহুরী নদী সিকিস্তির জায়গার দখল নিতে এই নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের একদল গ্রামবাসী। যারা এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে তাদেরকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সময় এক নারী আগুনে পুড়ে মারা যাওয়াসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি বলেন, ‘পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। যারাই এই অমানবিক ঘটনায় জড়িত থাকুক তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘অমানবিক এই ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে জমা দিতে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে এসব পরিবারকে সরকারিভাবে সার্বিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা যায়।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, যারা এই নারকীয় তাণ্ডবে জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।’ দেশ রূপান্তর।




