পতাকা ডেস্ক: তফশিল ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঢাকা ৮ আসনের প্রার্থী ও জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদীর উপর হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। তার জীবন এখন সংকটাপন্ন। এ ঘটনা দেশের বিবেককে যেমন একটা বড় ধাক্কা দিয়েছে তেমনি দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ভয়াবহ ভাবে নাজুক সেটা প্রকাশ করেছে। গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের অন্তর্গত তিনটি দলের সদস্যরা ওসমান হাদীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে এ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গত ১৬ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাংক্ষিত কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় নাই। এমনকি সরকারের মধ্যে সেই প্রচেষ্টাও কোনো দৃশ্যমান পর্যায়ে ছিলনা। পরিস্থিতি আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন আজকে জুলাই যোদ্ধা ও ঢাকা ৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদীর উপর যেভাবে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে কেবল প্রশিক্ষিত শ্যুটারদের পক্ষেই এই কাজ করা সম্ভব।
এর আগে বরিশাল, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই নির্বাচনী প্রার্থীদের উপর নাজেহাল, হামলা এমনকি গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনা প্রতিরোধে বা বিচারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ন ব্যর্থ ছিল। এবার ওসমান হাদীর উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নূন্যতম সক্ষমতা, গোয়েন্দাবাহিনীগুলোর নূন্যতম তৎপরতা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নূন্যতম দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা থাকলে একের পর এক এসব ঘটনা ঘটতে পারে না। পুলিশ ও প্রশাসন সংস্কার ব্যর্থ হবার ফলাফল এটা।
তিন নেতা ওসমান হাদীর উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
একই সাথে আশংকা প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন বানচাল করার একটা চক্রান্ত দেশে ক্রিয়াশীল। দেশে অরাজকতা তৈরি করে পরাজিত মাফিয়া গোষ্ঠীর দেশে ফেরার পথ সুগম করার জন্য একটি গোষ্ঠী কাজ করছেন। এখনি সরকার, নির্বাচন কমিশন, গোয়েন্দা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো দায়িত্বশীল ও উদ্যমী না হলে সামনের দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে। এমন কোন পরিস্থিতির দায় তারা কেউ এড়াতে পারবেন না।



