মহানগরশিরোনাম

এমপিকে স্বামী দাবি করে ফেসবুকে নারীর পোস্ট

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় নিয়ে সামনে এসেছেন লিজা আক্তার আয়েশা নামে এক নারী। শুধু তাই নয়, এমপির বিচার চাইতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন বলেও জানান তিনি। সোমবার (১ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই নারী।
এর আগে এমপি এনামুলের সঙ্গে একাধিক অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন লিজা আক্তার আয়েশা। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ওই নারীর বাড়ি নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়।
তবে এমপি এনামুল হক দাবি করেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। আইনগতভাবে ডিভোর্সও হয়েছে। তাকে সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করেছি আমি। নানা সময়ে টাকার জন্য ব্লাকমেইল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে তার সম্মানহানি করে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।
সোমবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে লিজা আক্তার আয়েশা লিখেছেন, ‘আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেসি। আমি থেমে যাই নাই। মাননীয় সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন, আমি গণমাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দিবেন। সব মিলিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তবে আমি থেমে নেই, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো। আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন, আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।।’
এর আগে গত শনিবার (৩০ মে) ওই নারী ফেসবুকে লিখেন, ‘এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই, দ্বিতীয় বউ আমি।’ আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এমপি সাহেব আমার হাজব্যান্ড এই কথাটা যদি কারও কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়, তারা বিয়ের কাগজ দেখতে পারেন।’

এর দুই ঘণ্টা পরে আরেকটি পোস্টে লিজা আক্তার আয়েশা লিখেন, ‘একজন সংসদ সদস্য অনেক বড় অবস্থানের মানুষ। তার বিরুদ্ধে চাইলেই কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না। আমার কথাগুলো যদি মিথ্যা হইতো তাহলে এতক্ষণে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যেতো। আমি যা কিছু বলছি এবং বলবো সব সত্যি। আপনারা আমাকে বিরক্ত না করে ধৈর্য ধরে পাশে থাকুন।’
আরেকটি পোস্টে এই নারী লিখেন, ‘২০১৮ সালের ১১ মে আমাদের বিয়ে হয়। প্রথমে আট বছর আগে আমাদের বিয়ে হয় মৌখিকভাবে। তার বাগমারার বাড়িতে। কিন্তু লিখিত বিয়ের পর গত দুই বছর ধরে তিনি আমাকে গোপনে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আসছেন। এখন তিনি একটি ভুয়া কাগজ করে আমাকে তালাক দিয়েছেন। সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ কারণে আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমি ফেসবুকে এসব কথা বলেছি। আমি আমার সংসার করতে চাই আমার স্বামীর সঙ্গে।’
ফেসবুকে এমপি এনামুলের সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করার পাশাপাশি বিয়ের কাবিননামাও পোস্ট করেছেন লিজা। তিনি দাবি করেন, ‘আমার স্বামী ভুয়া কাগজ করে আমাদের তালাক হয়েছে বলে দাবি করছেন। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে চাই। এ কারণে নগরীর রাজপাড়া থানায় আমি মামলা করতে গেছিলাম শুক্রবার। কিন্তু থানা পুলিশ আমার মামলা নেয়নি। তবে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাই। তাকে না পেলে আমি আইনের আশ্রয় নেব।’
সুত্র : পূর্বপশ্চিমবিডি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button