শিক্ষাশিরোনাম

এবার পোড়া মবিল মেখে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট আজও চলছে। রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। যা চলবে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ছয়টা পর্যন্ত।
ধর্মঘটের প্রথম দিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নৈরাজ্য কায়েম করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। পরিত্যক্ত পোড়া মবিল আর অালকাতরার টিন হাতে নিয়ে তারা ত্রাস সৃষ্টি করেছে সড়কে সড়কে। ধর্মঘটের মধ্যে সড়কে গাড়ি বের করলেই চালকদের মুখে মবিল-আলকাতরা মেখে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দেশের যেকোনো আন্দোলনে এরকম ঘটনা এবারই প্রথম।
এরই প্রতিবাদে মুখে পোড়া মবিল মেখে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবাদ জানান। শ্রমিকদের এ আন্দোলনে নারী নির্যাতন, শিশুহত্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধ‌নে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি তু‌লে ধ‌রেন। দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা, আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করা এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য রোগী বহনকারী গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেগু‌লোতে লেখা ছিল ‘ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কেন?’, ‘আলকাতরা সন্ত্রাস নিপাত যাক’, ‘দেশের বুকে চুনকালি শ্রমিক নেতার নেই বুলি’, ‘স্কুল ড্রেসে কালি কেন?, ‘কালি নাকি কলঙ্ক ইত্যা‌দি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী আবদুল করিম বলেন, ‘যখন যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, তখন তাদেরকে দমন করতে হেলমেট বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আজকে যখন সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে । তখন পুলিশ বাহিনী এবং হেলমেট বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে। গতকালকে যে শিশুটি মারা গেছে, এটাকে আমরা মৃত্যু বলতে পারি না। এটা একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড।’
সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ ক‌রে বলেন, ‘পুরো পরিবহন সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করছে শাহজাহান খান। এখানে শ্রমিকদের সাধারণ মানুষের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মাফিয়া শ্রেণি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ আইন সংসদে পাশ হয়েছে। আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই শ্রমিক ফেডারেশন আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পর-পর বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার আইনটি প্রণয়ন করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button