এক ঘটনাতেই মহানায়ক পাকিস্তানের অধিনায়ক

ম্যাচ গড়াপেটায় নাম জড়িয়েছে একের পর এক পাকিস্তান ক্রিকেটারের। কেউ নির্বাসিত হয়েছেন তো কারো বিরুদ্ধে এখনো মামলা চলছে। কিন্তু সেই তালিকায় ব্যতিক্রমী হয়ে রইলেন বর্তমান পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। দুবাইয়ে চলতি শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজে এক বুকি নাকি গড়াপেটার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সরফরাজকে। এমনই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন তিনি। যে প্রস্তাব গ্রহণ না করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তাদেরর বিষয়টি জানিয়ে দেন পাক ক্যাপ্টেন।
সম্প্রতি পাকিস্তান সুপার লিগে স্পট-ফিক্সিংয়ের জন্য পাক ব্যাটসম্যান শরজিল খান এবং খালিদ লতিফকে নির্বাসিত করেছে পিসিবি। পাকিস্তান দল থেকে দুর্নীতি দমন শাখা, সকলেরই ধারণা ছিল এই ঘটনার পর নিশ্চয়ই বুকিরা আর গড়াপেটার প্রস্তাব দেয়ার সাহস পাবে না। দুর্নীতির কালো মেঘ থেকে পাকিস্তান দলকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে।
কিন্তু সরফরাজের রিপোর্ট গোটা টিম ম্যানেজমেন্টকে রাতারাতি নাড়িয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, বুকি দুবাইয়েরই ব্যক্তি এবং সরফরাজ তাকে আগে থেকেই চিনতেন। সেই কারণে অনায়াসেই তার কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর নেই।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলছেন, “গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সরফরাজ দলনেতা হিসেবে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা সত্যিই বাকিদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। তিনি বুঝিয়ে দিলেন কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব।”
আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত ক্রিকেটার বুকিদের থেকে এ ধরনের প্রস্তাব পান, তাদের নাম সাধারণত গোপনই রাখা হয়। কিন্তু সরফরাজ প্রস্তাব পাওয়া মাত্র দুর্নীতি দমন শাখায় জানিয়ে দেন। যাতে যত দ্রুত সম্ভব আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারেন। এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের উপর আরো বেশি করে নজর রাখা হচ্ছে। চলতি সিরিজের মাঝে দুবাইয়ে শপিং, বাইরে ডিনারেরও অনুমতি দিয়েছিলেন কোচ মিকি আর্থার। তবে আপাতত সেসব বন্ধ।




