একদলীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : মওদুদ আহমদ

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিচতলার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিচতলার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
ক্ষমতাসীন সরকারকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারির মতো এদেশে আর একদলীয় নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার আর বিসর্জন দিবে না। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটের রায় দেখার জন্য আওয়ামী লীগকে অপেক্ষা করতে বলেন তিনি।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিচতলার মিলনায়তনে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ আহমদ এসব বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মওদুদ আহমদ দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, আমরাতো দেশের এমন অবস্থা দেখার জন্য একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ করিনি? আজকে সরকার বলছে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন সব আছে। আসলে দেশে কিছুই নেই। দেশে দলীয় শাসন আছে কিন্তু আইনের শাসন নেই। আমরা যারা বিরোধী রাজনীতিক তারা যেন দ্বিতীয় শ্রেনির নাগরিক। প্রথম শ্রেনির নাগরিকের জন্য সব সুবিধা আর আমাদের জন্য আলাদা কথা।
ঢাকায় বিএনপির কালোপতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে পুলিশী বাধার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কালোপতাকা প্রদর্শন করতে চেয়েছিলাম। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে। আমরাতো রাস্তা বন্ধ করিনি। আমাদের নেত্রীকে কারাগারে নেয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় কালো পতাকা মিছিল থেকে কালোপতাকা প্রদর্শণ কর্মসূচি দিয়েছিলাম। সেখানেও সরকার বাধা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আক্রমণ করেছে। রঙ্গিণ পানি দিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারি সহায়তায় নৌকা মার্কায় ভোট চাইছেন আর গণতন্ত্রের জন্য যিনি লড়াই করছেন সেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসি যদি তল্পিবাহক না হয়ে সাহসী ও স্বাধীন হতো সংবিধান মোতাবেক কাজ করতো তাহলে তারা আওয়ামী লীগকে বাধা দিত। তা নাহলে বিএনপিকেও একই ধরনের সুযোগ দিত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। তাহলে এখান থেকে বুঝা যায় সরকার আগামী নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে?
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো একদলীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আমাদের ওপর যত নির্যাতনই হোক।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে এই সরকারের আমলে অনেক সাংবাদিক নির্যাতনে শিকার। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। গণমাধ্যমের প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা নেই। বিচারকদের স্বাধীনতাও নেই। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে কিভাবে দেশত্যাগ করিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাহলে তো আইনের, ইমপিচমেন্টের ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দরকার নেই। যেহেতু ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হয়। আসলে সরকার একটা নিচু, নোংরা ও খারাপ পথ দেখিয়েছে। এই সরকার সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। এরপর কি আর কোনো বিচারক সুষ্ঠু রায় দিবেন? নিম্ন আদালতেও একই অবস্থা।
খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের প্রতীক আখ্যা দিয়ে সাবেক এই আইনমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে বন্দি করে নৌকায় ভোট চাইছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। এর পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। কারণ দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার আর বিসর্জন দিবে না। এখন জনগণের ভোটাধিকার দেখার জন্য আওয়ামী লীগের অপেক্ষা করতে হবে।
বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুর, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএফইউজে’র, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ। সভায় ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।




