একটি বাড়ির জন্য কোটি টাকার সেতু

আবদুর রাজ্জাক ঃ মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত হচ্ছে একটি সেতু। প্রায় কোটি টাকা বাজেটের ওই সেতুটির সুবিধাভোগী হবে হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ। বিশেষ একটি বাড়ির সীমিতসংখ্যক মানুষের জন্য কোটি টাকার সেতু নির্মাণে বিস্মিত এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াজুরি-ঘিওর সড়কের পাশেই পুটিয়াজানী গ্রামে জাবরা খালের ওপর ২১ মিটার দৈর্ঘ ও সাড়ে চার মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ৮৬ লাখ টাকা বাজেটের সেতুটির গোড়ায় নেই সংযোগ সড়ক, নেই চলাচলের রাস্তা। সেতুর ঢালেই চোখে পড়বে সারি সারি গাছপালা।
ঢাকার মানিকগঞ্জ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন কুটুু উচ্চপর্যায়ে তদবিরের মাধ্যমে এ সেতুর কাজ করাচ্ছেন। মূলত তার বাড়ির পাঁচ-ছয়জন সদস্যদের জন্যই এ সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছে এলজিইডি।
তদবিরের কথা স্বীকার করে মোবাইল ফোনে সালাউদ্দিন কুটু বলেন, আমি এলজিইডি কর্তৃপকে একটি সেতুর কথা বলেছিলাম। তারা নিজেরাই মাপজোখ করে এ সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছে। এখন তারা ছোট সেতু করে দিবে, না বড় দিবে তা তাদের ব্যাপার। এত বড় সেতু নির্মাণে আমি নিজেও বিব্রত।
কুটুর প্রতিবেশী আবুল কাশেম জানান, কুটু ও তাদের বাড়ির পাশে তিন-চারটি বাড়ি রয়েছে। ওই সেতু নির্মাণের ব্যাপারে তাদের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। কুটু নিজেই তদবির করে ওই সেতুর কাজ করাচ্ছেন। এই সেতুতে তার কিছু জায়গা পড়েছিল। সেখানে কয়েকটি বড় বড় গাছ ছিল, সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। উপজেলা এলজিইডিকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
সালাউদ্দিন কুটুর তদবিরে সেতু নির্মাণ হচ্ছে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা বরকত আলীর জায়গায়। বরকত আলীর স্ত্রী জবেলা খাতুন জানান, এ সেতুতে তার ৭-৮ শতাংশ জায়গা চলে গেছে। এর জন্য তাকে কোনো তিপূরণ দেয়া হয়নি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ জাবরা খালেই কুটুর বাড়ির আগে আরো কয়েকটি সেতু রয়েছে। একেবারে সরু এসব সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন অসংখ্য মানুষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্গাবাড়ি এলাকার কয়েকজন জানিয়েছেন, আমাদের সরু ভাঙাচোরা সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। আর কুটুর বাড়ির সামনে কয়েকজন মানুষের চলাচলের জন্য এত বড় সেতু সরকার কিভাবে করে দিলো বিষয়টি সত্যিই দৃষ্টিকটু। ওই বাড়ির সামনে বড়জোড় দুই-তিন লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বক্স কালভার্ট করা যেত।
স্থানীয় বানিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চতু জানান, এক ব্যক্তির স্বার্থেই ওই সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ঘিওরে এমনও অনেক জায়গা রয়েছে; যেখানে সেতুর অভাবে হাজারো মানুষ কষ্টে রয়েছেন।
মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: বারেক হাওলাদার জানান, স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিইে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।




