Uncategorized

ঈমান আলীর ৫ গাড়ল এখন ৫৭টি

যশোরের চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে গাড়ল পালন করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন ঈমান আলী। তিনি উপজেলার স্বরুপদহ ইউনিয়নের হিজলী গ্রামের মৃত দবির উদ্দীনের ছেলে। ঈমান আলী জানান, ২০১০ সালে মাত্র ৫টি গাড়ল কিনে পালন শুরু করেন। ৫ মাস পর তারা ৩টি খাসি ও ৪টি বকরির বাচ্চা দেয়। এর মধ্যে থেকে একটি মেড়া (পাঁঠা) রাখি। প্রতিমাসে গড়ে ৮/১০ হাজার টাকার ভেড়া/ গাড়ল বিক্রি করি। বর্তমানে ভেড়া ও গাড়লের সংখ্যা ৫৭টি।
গাড়ল সব ধরণের খাবার খেয়ে থাকে ও অসুখ হয় না বললেই চলে। এরা বছরে তিনবার বাচ্চাদেয়। একবারে ৩/৪টি বাচ্চা দিয়ে থাকে। জন্ম নেয়ার ৬/৭ সপ্তাহ পর প্রতিটি বা’চ্চা ২৫ শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
তার ২৫/৩০টি বকরি গাড়ল/ভেড়া রয়েছে। যার জন্য থাকার ঘর, নিরাপত্তা প্রাচীর ও ঘাস, গমের ভূসি, বেগুন, কপি, ভাত ইত্যাদি খাদ্যে চলতি বছর খরচ হয়েছে প্রায় ১০/১৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি করেছি ৮/১০টি গাড়ল। যার বাজার মূল্য ৩০/৩৫ হাজার টাকা। তার এ গাড়ল পালনে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয় না। তিনি বলেন, সকালে একবেলা খেতে-খামারে কাজ করি বিকেল বেলা গাড়ল চরান।
তার মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং এ খাতে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করলে বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। যদি কোনো যুবক চাকরির পিছনে না ছুটে গাড়লের ফার্ম করে তাতেই সাবলম্বী হওয়া সম্ভব।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় ফুলসারা ইউনিয়নের ফুলসারা গ্রামের লিটু মিয়া ও হুমায়ুন কবির, নারায়নপুর ইউনিয়নের কেসমতখানপুর গ্রামের নুর ইসলাম, বড়খানপুর গ্রামের ইসলাম সর্দার, সহেল রানা, আলী হোসেন, নুর উদ্দীন, জাকির হোসেন, শিমুল হোসেন, মহি উদ্দীন, শাহাবুদ্দীন পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ, বাড়িয়ালী গ্রামের রাবেয়া বেগম, আজমতপুর গ্রামের সেলিনা খাতুন, মুকন্দপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম গাড়ল ও ভেড়া পালন করেছেন।
উপজেলায় দেশীয় উন্নত জাতের গাড়ল ও ভেড়া পালন করা হচ্ছে ৩ হাজার ৫ শ’ ২০টি, বিদেশী ও পাহাড়ি জাতের বড়ান জাতের গাড়ল রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭ শ’ টি। বর্তমানে গাড়ল ও ভেড়া পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলার অনেক বেকার যুবক গাড়ল ও ভেড়া পালন শুরু করেছেন। উপজেলার ভেড়া/গাড়ল রাজধানী ঢাকা, খুলনা, চিটাগাং, বরিশাল, রাজবাড়ী সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।
গাড়লপ্রেমী চৌগাছা পৌরসভার করনির্ধারক কর্মকর্তা সিংহঝুলী গ্রামের শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, শাশুড়ি একটি গাড়ল দিয়েছেন আর একটি শিয়েলমারীর হাট থেকে কিনে এনেছি। এদের জন্য বাড়তি কোনো খাবার জোগাড় করতে হয় না।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী জানান, গাড়ল/ভেড়া পালনের জন্য তেমন বড় কোনো ফার্ম এ এলাকায় নেই। তবে গাড়ল/ভেড়া পালন করে কম সময়ে সাবলম্বী হওয়া যায়। নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button