বিবিধশিরোনাম

ইসলামকে ঘৃণা করতেন, মুসলিম হয়ে বদলে গেল জীবন

বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র মোহামেদ সালাহ। নিয়মিত কোরআন পড়ে আলোচনার এসেছেন বেশ কয়েকবার। সালাহ একজন নিবেদিত মুসলিম। তাই ধর্মচর্চায় কোনো রাখঢাক করেন না। নানা ধরনের ধর্মীয় আচার পালন করতে দেখা যায় তাকে। মাঠে হরহামেশা এর প্রমাণ মেলে। প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েই মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিজদাহে অবনত হন, দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন। খেলা শুরুর আগেও দোয়া করেন। যেখানে যান সঙ্গে রাখেন পবিত্র কোরআন। মিসরীয় এই তারকাকে দেখেই মুসলিমদের ঘৃণা করা এক ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বেন বার্ড নামের ওই ব্যক্তির দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে। যিনি পেশায় একজন মৌসুমি টিকিট বিক্রেতা। ইংল্যান্ডের নটিংহাম ফরেস্ট ফুটবল ক্লাবে টিকিট বিক্রি করেন। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই মুসলিম হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে বার্ড বলেন, ‘ইসলামকে ঘৃণা করা বাদ দিয়ে আমি একজন মুসলিম হয়েছি।’
‘সালাহ প্রথম মুসলিম, যার ভেতর আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। সালাহ যেভাবে জীবন-যাপন করেন, যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন- সেটি আমার হৃদয়ে পরিবর্তন আনে। তার সাথে দেখা করতে পারলে খুশি হবো; জাস্ট একটাই কথা বলব ‘শুকরান’ বাংলায় আলহামদুলিল্লাহ।’
‘ সালাহ একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং সৎ। মোহামেদ সালাহ- আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি উপহার। আমি নটিংহাম ফরেস্ট ফুটবল ক্লাবে টিকিট বিক্রেতা, আমি গর্বিত মুসলমান হয়ে। আমি একজন মুসলিম।’
সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে মুসলিম ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিয়েছে; যার ফলে আরব দেশের প্রতি বার্ডের অনেক ভুল ধারণা শুধরে যায়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কথা আজও মনে আছে তার।
বার্ড এখন পবিত্র কোরআন পড়ার চেষ্টা করছেন সেই সঙ্গে ইসলাম ধর্মও জানার চেষ্টা করছে- ‘যখন মানুষ কোরআন পড়ার চেষ্টা করে বা ইসলাম জানার চেষ্টা করে, মানুষ তখন ভিন্ন কিছুই জানতে পারে। মিডিয়ায় যেটি সবসময় আসে না। আমি ইসলামিক কমিউনিটিতে নতুন এবং আমি এখনো জানার চেষ্টা করছি; অনেক কঠিন কিন্তু জীবন পরিবর্তন করে দেওয়ার মতন।’
গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল চেলসির সমর্থকেরা সালাহর সামনে ‘বোমারু’ বলে স্লোগান দেয়। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্ড এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। বার্ড বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার আমি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেগে যাই। যেটা মিথ্যা তার প্রতিবাদ করেছি।’
বার্ড বলেন, ‘জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই আমি ইসলামকে ঘৃণা করে এসেছি। সদ্য সেখান থেকে সরে এসেছি। আমি মুসলিম হয়েছি। বাকি জীবনটা খাঁটি মুসলমান হিসেবে কাটাতে চাই।’
২০১৭ সালের জুনে ইতালির রোমা থেকে ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে লিভারপুলে পাড়ি জমান বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সালাহ। সেই থেকে আজ অব্দি লিভারপুলে মুসলিম-বিদ্বেষী অপরাধ ১৮.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে আর অন্য কোনো ধরনের অপরাধ এতটা হ্রাস পায়নি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোর তুলনায় লিভারপুল ভক্তদের মধ্যে মুসলিম-বিরোধী টুইটের সংখ্যা অর্ধেক কমে গেছে। চলতি বছরের জুনে বিশ্বখ্যাত মার্কিন বিদ্যাপীঠ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার বরাতে এ খবর দিয়েছিল দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button