ইথোফেন-কার্বাইড দিয়ে আম পাকানো ক্ষতিকর নয়: বিএফএসএ

ইথোফেন-কার্বাইড দিয়ে আম পাকানো ক্ষতিকর নয়। অপরিপক্ব আম পাকানো হলে তাতে পুষ্টির মাত্রা কম হতে পারে। কিন্তু সে আম ক্ষতিকর নয় বলে জানিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে ‘মৌসুমি ফল পাকাতে বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএফএসএ’র চেয়ারম্যান বলেন, ধ্বংসের আগে এসব আম পরীক্ষা করা দরকার। দেশের সম্পদ ধ্বংস করা ঠিক নয়।
সম্প্রতি পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে কয়েক হাজার মণ আম ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে জনসচেতনতা তৈরির জন্য এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কার্বাইড প্রয়োগ করার সময় যিনি প্রয়োগ করবেন তার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এটা দেশের আইনে নিষিদ্ধ। কিন্তু কার্বাইড ফলের ভেতরে প্রবেশ করে না। অন্যদিকে ইথোফেন প্রয়োগ সারা পৃথিবীতে বৈধ। ফলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত ইথোফেন থাকা বৈধ।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পরিচালক (পুষ্টি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমে ইথোফেন প্রয়োগ করা হলে সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত মাত্রার নিচে চলে আসে। আমাদের মুখপাত্রদের জ্ঞান এ বিষয়ে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফরমালিন কোনোভাবেই ফল ও শাক-সবজিতে কাজ করে না। এটি কাজ করে আমিষের ক্ষেত্রে।
বিএফএসএর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও মো. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, ফরমালিনের দ্রবণে মাছ পাঁচ-ছয় দিন চুবিয়ে না রাখলে তা কাজ করবে না। একবার চুবিয়ে মাছের পচন রোধ করা সম্ভব নয়।
এফএওর নিরাপদ খাদ্য প্রকল্পের পরামর্শক শাহ মুনির হোসেন বলেন, খাদ্য বিষয়ে যেকোনো অভিযানের আগে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো জেনে নেওয়া ভালো।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




