জনগণের আস্থা হারিয়ে দিনের ভোট রাতে করা জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ, সেই দলটির প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা প্রতিনিয়ত ধানের শীষের গণসংযোগে বাধা দিচ্ছেন— এ অভিযোগ ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের ধানের শীষ প্রতীক ও বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যতই বাধা আসুক আগামী ১২ নভেম্বর ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভোট কেন্দ্রে থাকবো। বিজয়ই নিয়েই ঘরে ফিরব।”
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় এস এম জাহাঙ্গীর কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে পায় হেঁটে খিলক্ষেত থানার কুড়াতলি এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। কুড়িল, বিশ্ব রোড, জোয়ার সাহারা, বসুন্ধরা গেইট হয়ে জগন্নাথপুরে গণসংযোগের সমাপ্তি টানেন। সেখানে জাহাঙ্গীর বলেন— এই জনস্রোতই প্রমাণ করে দেশের মানুষ তথা ঢাকা-১৮ আসনের মানুষ খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও গণতন্ত্রের প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আছেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে করা বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, “গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আমাদের মিটিং ছিল। তারা বলেছে, আপনাদের নেতা-কর্মীরা যখন ধানের শীষের ভোট চাইতে বের হয় তখন হাজার হাজার নেতা-কর্মী গণসংযোগে বের হন। হাজার হাজার মানুষ বের হয় সিইসি বলেছেন। আরও বলেছেন, এলাকার রাস্তাঘাট ভালো না, এলাকার উন্নয়ন নেই, নেতা-কর্মী কম করে নিয়েন। তখন আমি বলেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই এলাকার যত উন্নয়ন তিনি করেছেন। আর কেউ উন্নয়ন করেনি। তাই আমরা বিশ্বাস করি, আগামী ১২ নভেম্বর জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আর আমাদের নেতা–কর্মীরা পোলিং এজেন্ট হিসেবে ভোট কেন্দ্রে থাকবেন, কেন্দ্রে থাকবেন। সকাল সকাল কেন্দ্রে যাব রেজাল্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবো।”
বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, গণসংযোগ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশের অসহযোগিতা করাসহ নানা অভিযোগ দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “গত ১২ বছর ধরে জনগণ ভোট দিতে পারছেন না। এটা আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। আমাদের নেত্রী বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যে আমরা জীবন দিয়েছি, তেমনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনের আবারও জীবন দেব। তারপরও গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবোই আনবো ইনশা আল্লাহ।”
দেশে দুর্নীতি, দুঃশাসন চলছে উল্লেখ করে বলেন, “বালিশ কেলেঙ্কারি, পর্দা কেলেঙ্কারি এ সব দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। আওয়ামী লীগের ফরিদপুরের দুই নেতা দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে তা মানুষ ভুলে যায়নি। মা-বোনদের ইজ্জত লুটে নিচ্ছে, তারা হুমকির সম্মুখীন তা মানুষ ভুলে যায়নি।”
“আমরা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ সৃষ্টি করবো। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবো।”
গণসংযোগে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী হযরত আলী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফকরুউদ্দিন রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজাউল হক রিয়াজসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।



