বিবিধশিরোনাম

আসলে কেসটা কি?

তারিক চয়ন
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানান, ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া বাংলাদেশের কাছে করোনার টিকা চেয়েছে। কিন্তু হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যম দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দেশটি বাংলাদেশের কাছে কোন টিকাতো চায়-ই নি। বরং বাংলাদেশ-ই তাদের টিকা দেবার প্রস্তাব দিয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত সপ্তাহে চিঠি এসেছিল। হাঙ্গেরি ৫ হাজার টিকা চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সদয় সম্মতি দিয়েছেন। আমরা হাঙ্গেরির ভাইবন্ধুদের জন্য পাঠিয়ে দেব আমাদের স্টক থেকে।”
তিনি আরো বলেন, “বলিভিয়াও চিঠি দিয়েছে ভ্যাকসিন চেয়ে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে আমরা পাঠিয়ে দেব।”
কিন্তু হাঙ্গেরির পত্রিকা এক প্রতিবেদনে বুধবার জানিয়েছে, দেশটি বাংলাদেশের কাছে কোন টিকা চায় নি। বাংলাদেশ নিজ থেকেই তাদের টিকা দেবার প্রস্তাব দিয়েছে।
হাঙ্গেরির ট্যাবলয়েড দৈনিক পত্রিকা ব্লিক বুধবার “ধন্যবাদ হিসেবে ৫০০০ ভ্যাকসিন পাঠাবে বাংলাদেশ, যমজ শিশুদের জীবন বাঁচানোর জন্য হাঙ্গেরিয়ান চিকিৎসকদের ভ্যাকসিন দিয়ে ধন্যবাদ” শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশন করে। প্রতিবেদনে সংসদে দেয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘হাঙ্গেরি বাংলাদেশের কাছে করোনার টিকা চেয়েছে’ বক্তব্যকে ‘অবাক করার মতো খবর’ বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাঙ্গেরিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্লিককে নিশ্চিত করেছে যে, ওই (বাংলাদেশ) দেশ থেকে পাঁচ হাজার ভ্যাকসিন আসতে পারে, তবে তাতে লেখা হয়েছে যে, নিউরোসার্জন আন্দ্রেস সিসেকা এবং প্লাস্টিক সার্জন গারগেলি পাটাকির নেতৃত্বে হাঙ্গেরীয় শল্যচিকিৎসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ ভ্যাক্সিনের প্রস্তাব দিয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রেস বিভাগ আরো জানায়- সবাই জানেন, হাঙ্গেরীয় চিকিৎসকরা বাংলাদেশী সিয়ামিজ (একে অন্যের সাথে যুক্ত) যমজ রোকাইয়া এবং রাবেয়াকে আলাদা করেছিলেন। বাংলাদেশ হাঙ্গেরীয় চিকিৎসকদের দুর্দান্ত কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাইছে, তাই তারা অ্যাস্ট্রাজেনেকা লাইসেন্সের আওতায় ভারতে তৈরি করা কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ৫০০০ ডোজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে পাবনায় জন্ম গ্রহণ করে জোড়া মাথার যমজ বাচ্চা রোকাইয়া-রাবেয়া। এরূপ জোড়া মাথার বাচ্চার আলাদাকরণ কার্যক্রমে সফলতা অর্জনের উদাহরণ অত্যন্ত কম হলেও ২০১৯ সালে হাঙ্গেরি সরকারের সহযোগিতায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হাঙ্গেরির কোন দূতাবাস নেই। কিন্তু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত ২১ জানুয়ারি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, হাঙ্গেরি বাংলাদেশে একটি কনস্যুলার অফিস খোলার অনুমতি চেয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
সুত্র : মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button