আশুলিয়ার প্রতারক জেএমবি আশিক জালিয়াতি করে প্রবাসী হাজী মাসুম এর জমি বেদখলের পায়তারা করছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আশুলিয়া ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় প্রবাসী রেমিটেন্স যুদ্ধা হাজী মোঃ মাসুম এর ভিটাবাড়ি জবর দখলের পায়তারা করছে জেএমবি আশিক নামে এক প্রতারক। জেএমবি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকায় এলাকার মানুষ তাকে জেএমবি আশিক হিসাবে চিনে । এই প্রতারক মাসুম এর বড় ভাইয়ের এক মাত্র মেয়ের জামাই। তার বড় ভাইয়ের কোন ছেলে না থাকায় তার সম্পত্তি আত্বস্বার্থ করার জন্য মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসাবে শশুর বাড়িতে থাকে।
এই সময় তার শশুর ইউনুস সরকার ও চাচা শশুর হাজী মোঃ মাসুম সৌদি আরবে থাকা অবস্থায়, তার বৌ ও শশুরিকে হাতকরে তার বসত ভিটা ৭ শতাংশ ভুমি আত্স্বার্থ করার জন্য জাল জালিয়াতি দলিল বানিয়ে নিজে মালিক হওয়ার পায়তারা করছে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে তারা দুই ভাই বিদেশ থেকে দেশে চলে আসে। প্রবাসী হাজী মাসুম এই প্রতিবেদককে বলেন আমি ৩৫ বছর সৌদি আরবে কাজ করে যে অর্থ উপাজন করেছি। সেই টাকা দিয়ে আমার স্ত্রী সন্তানের জন্য এক টুকরো জমি বড়ভাই থেকে কিনে বসত ভিটা করে দখলে থাকিয়া বসবাস করা অবস্থায় আমাকে বাড়ি থেকে উচ্চেদ করার জন্য এই প্রতারক নানাভাবে হয়রানী করছে। তার হয়রানীর শিকার হয়ে আমি এখন কোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তিনি বলেন পলাশ বাড়ি ৫৬৫নং মৌজায় স্থিত ২৭/নং ৪১নং খতিয়ানে সাবেক ৩৫৪ হালে ৬৪৩ দাগে নাল জমির ক্রয় সুত্রে মালিক ১, আব্দুস সোবান, ২,আবুল হাসেম, ৩,সামছুল তিন ব্যাক্তির কাছ থেকে ইউনুস সরকার ০৫/০৭/১৯৯৩ সালে ৬১৭৫ নং দলিলমুলে ৭ শতাংশ ভুমি মালিক দখলদার থাকিয়া তার প্রবাসী আপন ছোটভাই হাজী মোঃ মাসুম এর কাছে ২৯/০৫/২০০৪ সালে ৮১৬৮নং দলিলে সাভার সাব-রেজিষ্ট্রিার অফিসে ৩.৫০ শতাংশ সাব কবলাবিক্রি করিয়াছিলেন। উক্ত ৭ শতাংশ এস এ, আর এস.দুই ভাইয়ের নামে নামজারী ও খাজনা প্রদানের পর বিএস রেকর্ড ও দুই ভাইয়ের নামে করা হয়েছে। দুইভাই এক সাথে বিদেশে ৩৫ বছরযাবৎ থাকা অবস্থায় তাদের উপার্জিত অর্থের টাকায় উক্ত ভুমিতে বিল্ডিং বাড়ি করিয়া স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। মাসুম বিদেশে থাকা অবস্থায় তার ভাইয়ের একমাত্র মেয়ের ঘর জামাই আশিক ২০১১ সালে তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার এর নামে ৬০৪১/১৯ নং একটি দলিল করে তার শশুর ইউনুস সরকার তার মেয়েকে উক্ত ৭ শতাংশ ভুমি ২৮-০৪-২০১৯ সালে দিয়েছে বলে জাল দলিল করেন। আশিকের শশুরের জমি হলো ৩.৫০ শতাংশ সেখানে সে আশিক দলিল তৈরী করেছে ৭ শতাংশের এব্যাপারে ইউনুস সরকার কিছুই জানেনা বলে সিআর কোর্টে মামলা করেন। এনিয়ে যখন পারিবারিক ভাবে কথা হলে মিমাংসা কথা বলে। তখন ইউনুস সরকারকে তার মেয়ে ও ঘরজামাই আশিক মিলে তাকে অপহরণ করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় অপহরনের মামলা হলে ঘরজামাই আশিক ও তার শাশুড়িকে পুলিশ ধরে জেলা হাজতে প্রেরণ করে। পরে অপহৃত ইউনুস সরকারকে মোহাম্মদপুর থেকে উদ্ধারকরা হয়। এদিকে আশিক তার স্ত্রীর নামে দলিল বানিয়ে বিভিন্ন এনজিও /ব্যাংকে দলিল জমা দিয়ে টাকা তুলে আত্বস্বার্থ করছে বলে মাসুম জানায়।অন্য দিকে প্রবাসী মাসুমের স্ত্রী সন্তানদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি বলেন। আশিকের স্ত্রী নাঈমার নামে বানানো দলিলের বিরুদ্ধে তার শশুর ইউনুস সরকার চ্যালেঞ্জ করলে ঐ মামলার উকিলের পরামর্শে নাঈমা আক্তার তার পিতার নামে উক্ত জমি ০৬-০১-২০২০ইং তারিখে আশুলিয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল নং ৮৫ মুলে হেবা দলিলে ইনুসের মালিকানা ফেরৎ দেন। ঘরজামাই আশিক এখানে থেমে না গিয়ে সে ষড়যন্ত্র করে ২০-০১-২০২০্ইং আশুলিয়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে ৯১৪ নং একটি দলিল সম্পাদন করেন। সেখানে জমি দাতা আশিকের স্ত্রী নাঈমা আক্তার, জমি গ্রহীতা আশিকুর রহমান। ২০২০সালে প্রতারক আশিক তার স্ত্রী নাঈমাকে দিয়ে ০৬-০১-২০ ইং তারিখে ৮৫ নং দলিলে তার শশুর ইউনুস এর জমি ফেরৎ দিলো। আবার সেই জমি তার স্ত্রী নাঈমাকে দিয়ে তার নিজের নামে রেজিষ্ট্রারি করে নিলো। এই প্রতারক সেই দলিল দিয়ে এখন বাড়ির মালিকানা দাবী করে অন্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পায়তারা করছে। এলাকাবাসী বলছে আশিক এলাকায জেএমবি হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের পৃষ্ঠ্য পোষকতার অভিযোগ রয়েছে। সে ডেন্ডাবর এলাকায় একটি জঙ্গি সংগঠন তৈরী করার উদ্যোগ নিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করায় এখন সে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে রাষ্ট্র বিরোধি কাজের সাথে জড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এছাড়া গত ১৯ /১২/২০১৯ ইং তারিখে শশুরকে অপহরন করে তাকে মেরে পেলে তার জমি আত্বস্বার্থের চেষ্টার ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে মামলা নং ৮২, ধারা ৩৬৫/৩৪ পেনাল কোড। এর আগে তার শশুর ইউনুস বাদী হয়ে জমিও সম্পত্তি আত্বস্বার্থ এর অভিযোগ এনে বিজ্ঞ আদালতে একটি সিআর মামলা নং১০৯২/১৯ দায়ের করেন। সে কারনে তাকে অপহরন করা হয়। সে ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে আশিক তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার শাশুড়ি ফাতেমা আক্তারের যোগসাজস করার প্রমান পায়। তারা ইউনুস সরকারকে ঢাকা মোহাম্মদপুর একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে আটকিয়ে রাখে। এব্যাপারে আশিককে অভিযুক্ত করে কোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়।অন্যদিকে আশিক হাজী মাসুমকে নানাভাবে হুমকি প্রদান করছে। তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বাড়িতে গেইট দিয়ে তার সন্তানদের নাম প্লেট দিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এঘটনায় সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে আশিকের শশুরকে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে নাদিয়ে ঘরের রুমে আটকিয়ে রাখে। এব্যাপারে আশিকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে সে বলে এটা তার বাড়ি মাসুম ঐ বাড়ির কেয়ার টেকার সে আর বলেন এঘটনা নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে, কোর্টে মিমাংসা হবে। এদিকে মাসুম বলছে বাড়ির উপর সে জাল জালিয়াতি করে একাধিক দলিল তৈরী করেছেন। সে কাগজপত্র দিয়ে ব্যাংকে বাড়ি বন্ধক দিয়ে টাকা আত্বস্বার্থে লিপ্ত রয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রবাস জীবনে রেমিটেন্স যুদ্ধা হাজী মাসুম বলেন আমার সন্তানদের জীবন রক্ষায় আমি এই প্রতারকের হাত থেকে বাঁচতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তাদের সৃদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তপুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবী জানায় এলাকা বাসীর।



